রাখির সুতোয় বাঁধা প্রতিশ্রুতি!কিডনি দিয়ে ভাইকে জীবন ফিরিয়ে দিলেন দিদি

0



রাখির সুতোটা বড়ই নরম। অথচ সেই সুতোতেই যেন বাঁধা থাকে ভাই – বোনের সবচেয়ে শক্ত প্রতিশ্রুতি-বিপদে পাশে থাকার, প্রয়োজনে নিজের সবটুকু দিয়ে প্রিয়জনকে আগলে রাখার। রাখির সেই অঙ্গীকারকেই এ বার বাস্তব করে দেখালেন ৪৫ বছরের বীণা কুমারী গাংওয়ার। ভাইয়ের হাতে শুধু রাখি পরাননি, নিজের শরীরের একটা অংশ দিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বাঁচার স্বপ্ন। রাখিবন্ধনের আগে ছোট ভাই জিতেন্দ্রের জন্য নিজের কিডনি দান করেছেন দিদি। ভাইয়ের জীবনে এর চেয়ে বড় রাখির উপহার আর কী-ই বা হতে পারে!
৪০ বছরের জিতেন্দ্র সিং গাংওয়ার গত দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে কিডনির জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিসই হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাসপাতাল, ওষুধ আর ডায়ালিসিসের যন্ত্রের মধ্যে কেটে যাচ্ছিল দিনের পর দিন। চোখের সামনে ভাইয়ের এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছিলেন না বীণা। তাই একদিন আর দু’বার ভাবেননি। ভাইকে নতুন করে বাঁচানোর জন্য নিজেই এগিয়ে আসেন দাতা হিসেবে। প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, কিডনি দানের জন্য উপযুক্ত বীণা। এরপর গ্রেটার নয়ডার শারদাকেয়ার-হেলথসিটিতে সফলভাবে হয় কিডনি প্রতিস্থাপন।অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন দু’জনেই।
ভাইকে কষ্ট পেতে দেখে নিজের কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্তটা বীণার কাছে অবশ্য কোনও ‘ত্যাগ’ নয়। তাঁর কাছে এটা ছিল দিদি হিসেবে নিজের দায়িত্ব। বীণার কথায়, ‘ডায়ালিসিসের মধ্যে ভাইকে কষ্ট পেতে দেখে কিডনি দান করাটা আমার কাছে কোনও ত্যাগ মনে হয়নি। একজন দিদি হিসেবে ভাইয়ের প্রতি ভালবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই রাখিবন্ধনে তাঁকে আরও সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের সুযোগ দিতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।’ আর জিতেন্দ্র? তাঁর কাছে দিদি শুধু দিদি নন, জীবনের শক্তি। আবেগ সামলে তিনি বলেন, ‘আমার সারা জীবনের শক্তির স্তম্ভ আমার দিদি। আজ এই শুভ রাখিবন্ধনে তাঁর দান করা কিডনির মাধ্যমে তিনি আমাকে নতুন জীবন উপহার দিচ্ছেন।’ অস্ত্রোপচার করেন ডা. অনিল শর্মা। তিনিও আবেগাপ্লুত। তাঁর কথায়, ‘এই প্রতিস্থাপন শুধুমাত্র চিকিৎসার সাফল্য নয়, এটা ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্কের উদযাপন’।
এ বার তাই জিতেন্দ্রর হাতে বাঁধা রাখির সুতোটা যেন আরও গভীর। কারণ সেই রাখির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শুধু বোনের ভালবাসা নয়, নিজের শরীরের একটা অংশ দিয়ে ভাইকে আগলে রাখার অঙ্গীকার। ভাইয়ের হাতে রাখি পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বীণা তাঁকে দিয়েছেন এমন এক উপহার, যার মূল্য কোনও শব্দে মাপা যায় না-একটা নতুন জীবন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *