৯০ মিনিটের মহারণই ফাইনাল! ডুরান্ডের মুকুটের জন্য মরিয়া মোহনবাগান

0


ডার্বি দিয়েই ডুরান্ড কাপের ফাইনালের মঞ্চে উঠছে কলকাতা। তিন বছর পর ফের ডুরান্ডের ফাইনালে মুখোমুখি মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। আর সেই মহারণের আগে সবুজ মেরুন শিবিরে যেমন উত্তেজনা, তেমনই রয়েছে ক্ষোভ। ব্যস্ত সূচি, শিলং সফরের ধকল, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও অনুশীলনের অভাব—সব মিলিয়ে ফাইনালের আগে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে মোহনবাগান। তার উপর শিলং থেকে কলকাতা ফেরার সময় বিমান সমস্যায় চরম ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে ফুটবলারদের। তবু সব অভিযোগ সরিয়ে এখন একটাই লক্ষ্য, ডার্বি জিতে ডুরান্ডের সিংহাসনে বসা।
মরশুমের প্রথম ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই ডুরান্ড অভিযান শুরু করেছিল মোহনবাগান। সেই জয় নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে সবুজ-মেরুনকে। তবে ফাইনালের আগে পুরনো ফলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস। তাঁর মতে, আগের ডার্বি আর ফাইনাল এক নয়। পরিস্থিতি বদলেছে, দুই দলের দলও বদলেছে। তাই অতীতের জয় নয়, রবিবারের ৯০ মিনিটেই সব হিসাব মিটবে।
তবে সূচি নিয়ে ক্ষোভ চেপে রাখেননি পানোস। তাঁর প্রশ্ন, গ্রুপ পর্বে প্রথম ও সেরা দল হওয়ার পরও কেন মোহনবাগানকে এমন সূচির মধ্যে পড়তে হল? মাত্র ছ’দিনে তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে দলকে। শিলংয়ে সেমিফাইনাল খেলে পরদিনই কলকাতায় ফিরতে হয়েছে। শেষদিন অনুশীলনের সুযোগও মেলেনি। ডার্বির মতো ম্যাচের আগে যেখানে ফুটবলারদের তরতাজা রাখা জরুরি, সেখানে এই পরিস্থিতি দলকে বাড়তি চাপে ফেলেছে বলেই মনে করেন তিনি।
রেফারিং নিয়েও সরব বাগান কোচ। তাঁর অভিযোগ, একাধিক ম্যাচে মোহনবাগানের প্রাপ্য পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। ফাইনালে অন্তত নিরপেক্ষ রেফারিং চান পানোস। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ম্যাচের ফল যেন ফুটবলেই নির্ধারিত হয়, বিতর্কে নয়। তবে সম্ভাব্য টাইব্রেকারের জন্যও দল প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল-দু’টিই টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে উঠেছে মোহনবাগান। দু’বারই গোলরক্ষক বিশাল কাইথ হয়ে উঠেছেন নায়ক। পানোসের চোখে তিনিই দেশের সেরা গোলরক্ষকদের একজন।
ডার্বির মঞ্চে প্রথম বার নামতে চলেছেন সমীর জেলকোভিচও। উত্তেজনা এবং গর্ব-দু’টোই রয়েছে তাঁর মধ্যে। দেরিতে দলে যোগ দিলেও সতীর্থদের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের দানি র্যামিরেজের সঙ্গেও তাঁর পূর্বপরিচয় রয়েছে। কিন্তু রবিবার বন্ধুত্বের কোনও জায়গা নেই। সমীরের লক্ষ্য, সবুজ-মেরুন জার্সিতে নিজের সেরাটা দিয়ে ট্রফি জেতা।
ক্লান্তি আছে, ক্ষোভ আছে, প্রস্তুতির ঘাটতিও আছে। কিন্তু ডার্বির আগে অজুহাত নেই মোহনবাগানের। কারণ এই ম্যাচ শুধু ফাইনাল নয়, কলকাতার ফুটবলের আবেগের লড়াই। ডুরান্ডের ট্রফি আর ডার্বির মর্যাদা-দুইয়েরই ফয়সালা হবে একই ৯০ মিনিটে।

ছবি সৌজন্যে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Photo courtesy: Mohunbagan SG)

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *