‘এতো আমার জীবনের গল্প’,‘মিঠুনকে নিয়ে স্বপ্নপূরণ শিবপ্রসাদের, উইন্ডোজ প্রোডাকশনে প্রথমবার ‘মহাগুরু’
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের ছবি মানেই দর্শকের কাছে নতুন উপহার।তবে ছোটবেলার স্বপ্ন যে একদিন রুপোলি পর্দায় সত্যি হয়ে ফিরবে,হয়তো কখনও ভাবেননি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। যে অভিনেতাকে দেখে বড় হয়েছেন, যাঁর অভিনয় তাঁকে বার বার মুগ্ধ করেছে এ বার সেই ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীকেই নিজের ছবির গল্প শোনালেন পরিচালক। দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবের পথে এগিয়ে দিলেন শিবপ্রসাদ।২০২৭ সালে ‘উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউস’-এর ২৫ বছর পূর্তি। আর সেই বিশেষ বছরেই নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে আসছে তাঁদের নতুন ছবি। সমাজমাধ্যমে মিঠুনের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে পরিচালক লেখেন, “হ্যাঁ, ফাইনালি আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। আমি আর নন্দিতাদি সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী।”
মঙ্গলবার শিবপ্রসাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই লিখলেন তাঁর ছোটবেলার স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। মিঠুনের অভিনয় দেখে বড় হয়েছেন তিনি।তিনি লেখেন, “প্রত্যেক মানুষেরই কিছু স্বপ্ন থাকে। সেগুলো খুব ছোটবেলা থেকে মনের মধ্যে নিঃশব্দে বাসা বেঁধে থাকে। আমার তেমনই একটা স্বপ্ন ছিল — কোনও একদিন মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করব।বড় হয়েছি তাঁকে পর্দায় দেখে। অগ্নিপথ, ডিস্কো ডান্সার, দো আনজানে, ডান্স ডান্স — আরও কত ছবি!” পরিচালক লেখেন,”আবার বাংলা সিনেমায় তাঁর অসামান্য সব কাজ আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে, একজন অভিনেতার কোনও ভাষা হয় না, কোনও সীমানা হয় না। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর পর্দা জুড়ে থাকা — সব মিলিয়ে ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার কাছে শুধু একজন তারকা নন, এক অদ্ভুত বিস্ময়। আমার কাছে উনিই রামকৃষ্ণ, উনিই মৃগয়া, উনিই ডিস্কো ডান্সার।
তবে এই স্বপ্ন পূরণের নেপথ্যেও রয়েছে এক বিশেষ গল্প। মিঠুনের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা বহুদিনের হলেও সঠিক গল্পের অপেক্ষায় ছিলেন শিবপ্রসাদ।আমেরিকায় থাকাকালীন একসময় বর্ষীয়ান অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন তিনি। নিজের পরিচয় দিয়ে একটি ভয়েস নোট পাঠিয়েছিলেন পরিচালক। আর সেই ভয়েস নোট শুনেই নাকি পাল্টা ফোন করেছিলেন মিঠুন।শিবপ্রসাদের কথায়, “সেদিন মিঠুনদা কল ব্যাক করে বলেছিলেন—শিবু! নিজেকে শিবপ্রসাদ বলে এত বড় ফিরিস্তি দিচ্ছিস কেন? বসে আছি তো কাজ করব বলে!” এরপর আসে আরও বড় মুহূর্ত। মিঠুনের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করে নিজের ছবির গল্প শোনান শিবপ্রসাদ। সেই সময়ের অনুভূতি ভাগ করে নিয়ে পরিচালক জানান, গল্প বলার সময় তাঁর ভিতরে যেন ছোটবেলার সেই শিবু আবার ফিরে এসেছিল। গল্প শোনা শেষ করে মিঠুন তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বলেছিলেন,ফাটিয়ে দিয়েছিস! এ তো আমার জীবনের গল্প।”
মিঠুনের ওই কয়েকটি শব্দই যেন শিবপ্রসাদের বহু বছরের স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেয়। পরিচালকের কথায়,”আর কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। তারপর বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তব হবে। আজ সবকিছু ফাইনাল হলো। সবচেয়ে বড় কথা দাদা ভালো আছেন।” উল্লেখ্য,২০২৭ সালে উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউসের ২৫বছরের পূর্তিতেই মুক্তি পাবে ছবি। তাই প্রযোজনা সংস্থার ছবি দর্শকের কাছেও বিশেষ হয়ে উঠতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
