‘একজন অজ্ঞ ব্যক্তি দেশে নেতৃত্ব দিলে তিনি চাইবে গোটা দেশ নির্মম হয়ে উঠুক’,পড়ুয়াদের নিয়ে বিস্ফোরক নাসিরুদ্দিন
নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে উত্তাল অবস্থা।সোমবার দিল্লিতে আন্দোলনরত পড়ুয়ারা মিলে ‘সংসদ চলো’ অভিযান শুরু করেন। অভিযোগ, আন্দোলনের সময় পড়ুয়াদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশরা লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেন।তবে দেশের এমন অবস্থা দেখে নিজেদের ‘শিল্পী’ বলে চুপ থাকা তারকাদের মাঝেও সরব ছিলেন বহু তারকা ।প্রতিবাদের সুর তুলেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ, রফতারআরমান মালিক ও অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও।
পড়ুয়াদের উপর এই অত্যাচারের দৃশ্য দেখে বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ একটি ভিডিয়ো বলেন,”আমি আপনাদের দু’টি কথা বলতে চাই।প্রথমত, যদি একজন অজ্ঞ ব্যক্তি একটি দেশের নেতৃত্ব দেন, তাহলে তিনি চাইবেন গোটা দেশও তাঁর মতো অজ্ঞ, সংবেদনহীন এবং নির্মম হয়ে উঠুক।”তিনি জানান,অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা তিনি পেয়েছেন নিজের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকেই। তাই তাঁদের প্রতি তাঁর আলাদা টান এবং গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।আবেগঘন কণ্ঠে নাসিরুদ্দিন বলেন, “প্রতিটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে আমি আমার ছাত্রছাত্রীদের হাজার হাজার আশীর্বাদ জানাই। প্রতি শিক্ষক দিবসে তাঁদের স্যালুট করি। কিন্তু আজ এই তরুণ-তরুণীদের উপর যে নির্মম আচরণ হচ্ছে, তা দেখে আমার হৃদয় ক্ষোভে ভরে উঠেছে। মুখে মুখোশ, হাতে লাঠি নিয়ে যাঁরা তাঁদের উপর হামলা চালাচ্ছেন, তাঁদের দেখে আমার আমেরিকার আইস এজেন্টদের কথা মনে পড়ছে।তাঁদেরও একদিন এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।এই তরুণদের পাশে অনেক মানুষ রয়েছেন। ওদের আশা হারানো চলবে না। দেশের যুবসমাজের উপর আমার যে বিশ্বাস ছিল, এই ঘটনার পর তা আরও বেড়েছে।ওরা লড়াই চালিয়ে যাক, আমরা ওদের পাশেই আছি।”
প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতীয় র্যাপার রফতারও।ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি দীর্ঘ ভিডিয়ো বার্তায় রাফতার বলেন,”হৃদয় আর মস্তিষ্কের লড়াইয়ে অনেক সময় হৃদয় জিতে যায়। গতকাল ছাত্রছাত্রীদের উপর লাঠিচার্জের দৃশ্য দেখে আমার হৃদয়ই জিতেছিল। সেই ছবি আমাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমি যুক্তি দিয়ে ভাবা বন্ধ করে দিয়েছি।”তিনি জানান, দেশের অসংখ্য মানুষ আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবির সঙ্গে একমত হলেও কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকার তলায় গিয়ে প্রতিবাদ করতে চান না। রাফতারের কথায়, “আমার মতো অনেক মানুষ আছেন, যারা এই আন্দোলনকে সমর্থন করেন। কিন্তু আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে চাই না। আমি বিজেপি, সিজেপি, অন্য কোনও দলের পাশে নই। আমি শুধু সংবিধান রক্ষার পক্ষে।”
নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রসঙ্গে রফতার সরাসরি জবাবদিহি দাবি করেন। তিনি বলেন, “যদি বারবার প্রশ্নফাঁস হয়, তাহলে তার কারণ জানতে হবে। কে দায়ী, সেটাও জানতে হবে। আর যদি কোনও ব্যক্তি এর জন্য দায়ী হন, তাহলে তাঁর জবাবদিহি এবং প্রয়োজন হলে পদত্যাগও দাবি করা উচিত।আজ যারা পরীক্ষার জন্য লড়াই করছে, তারাই আগামী দিনের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসনিক আধিকারিক বা অন্যান্য পেশার মানুষ হবে। ভবিষ্যতে তারাই আমাদের চিকিৎসা করবে, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বে। তাই এই লড়াই শুধু কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর নয়, গোটা দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।”এমনকি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হলে তিনি সেই প্রতিবাদে যোগ দেওয়ারও চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “আজকের ঘটনাগুলোর দৃশ্য অনেক দিন আমার মনে থেকে যাবে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে আসা মানুষদের উপর যেভাবে নির্মম বলপ্রয়োগ এবং লাঠিচার্জ করা হয়েছে, তা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমার বিশ্বাস, এই পরিস্থিতি আরও ধৈর্য, আরও সংলাপ এবং আরও মন দিয়ে শোনার মাধ্যমে সামলানো যেত।আমরাই এই সরকারকে নির্বাচিত করেছি। তাই তাঁদের থেকে জবাবদিহিতাও প্রত্যাশা করি ভারত একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। সব বিষয়ে সবার মত এক হবে না, কিন্তু বলপ্রয়োগের আগে প্রত্যেক নাগরিকের কথা মর্যাদার সঙ্গে শোনা উচিত।যে সব ছাত্রছাত্রী এবং নাগরিক শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আমার সম্মান।”
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জুলাইয়ের শুরু থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পড়ুয়ারা। শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলনের ‘সংসদ অভিযান’ ঘিরে দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর থেকেই দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এরপর থেকেই একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রকাশ্যে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমর্থনে মুখ খুলছেন।
