৬০০তম টেস্টে সুতারের ঘূর্ণি, গলে জয় ভারতের—বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল কত দূর?
গলে ৬০০তম টেস্টে জয় পেল ভারত। শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শুভমন গিলের দল। তবে এই জয়ের আসল নায়ক যদি কাউকে বলতে হয়, তা হলে নিঃসন্দেহে মানব সুতার। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে গলের পিচে নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন তরুণ বাঁহাতি স্পিনার। প্রথম ইনিংসে চার উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর শিকার ছয়। সব মিলিয়ে ১০ উইকেট। আর তাঁর ঘূর্ণিতেই শেষ দিনের শেষ সেশনে মাত্র ১৬ বলের মধ্যে শ্রীলঙ্কার শেষ চার উইকেট পড়ে গেল।
৩৭২ রানের লক্ষ্যে শেষ দিন ৪ উইকেটে ৮৪ রান নিয়ে শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। সকালের সেশনেও ভারতীয় বোলারদের খুব একটা স্বস্তি দেয়নি তারা। ৬ উইকেটে ১৭৫ থেকে ধীরে ধীরে লড়াইটা টেনে নিয়ে যাচ্ছিল শ্রীলঙ্কা। একসময় মনে হচ্ছিল, অন্তত ম্যাচটাকে শেষ সেশন পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভার সতীর্থরা। কিন্তু সেখানেই পাল্টে গেল ম্যাচের ছবি। ৭৫ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ৬ উইকেটে ১৯৯। তারপরই সুতারের ঘূর্ণিতে ধসে পড়ে লঙ্কার ব্যাটিং। এক ওভারের প্রথম দুই বলেই প্রবাত জয়সূর্য ও সোনাল দিনুশাকে ফেরান তিনি। ওভারের শেষ বলে লাহিরু কুমারাও তাঁর শিকার। পরের ওভারে ফিরে এসে কেশারা নুয়ানথাকেকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ইতি টেনে দেন। ২০৬ রানেই অলআউট লঙ্কাবাহিনী।
সুতারের জন্য এই টেস্ট অবশ্যই বিশেষ হয়ে থাকবে। গত জুনে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টে সাত উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় টেস্টেই এসে পেলেন ১০ উইকেট। অর্থাৎ কেরিয়ারের মাত্র দুই টেস্টেই তাঁর সংগ্রহ ১৭ উইকেট। গলের পারফরম্যান্সের পর তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশাও বাড়ছে। শুভমন গিলও তরুণ স্পিনারের প্রশংসায় বলেছেন, ভারতে এবং এই ম্যাচে সুতারের বোলিংয়ে তিনি দারুণ সম্ভাবনা দেখেছেন। দীর্ঘদিন ভারতের হয়ে খেলার ক্ষমতা রয়েছে এই স্পিনারের। গলের জয় শুধু সুতারের ব্যক্তিগত উত্থানের গল্প নয়, ভারতীয় টেস্ট দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি। ঘরের মাঠে স্পিনবান্ধব উইকেটে সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যাশামতো ফল পায়নি ভারত। শেষ তিনটি সিরিজের মধ্যে দুটিতে হেরেছিল তারা। তার পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে এসে এমন দাপুটে জয় তরুণ ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ৬০০তম টেস্টে জয় পাওয়াটাও সেই আত্মবিশ্বাসে আলাদা মাত্রা যোগ করছে।

তবে জয় যত বড়ই হোক, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অঙ্ক এখনও ভারতকে নিশ্চিন্ত হতে দিচ্ছে না। গলে জয়ের পরও পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানেই রয়েছে ভারত। পয়েন্ট শতাংশ অবশ্য ৪৮.১৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৩.৩৩। চতুর্থ স্থানে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগ থাকলেও ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বড় ধাক্কা দিয়েছে প্রতিযোগিতার সমীকরণে। ফলে ভারতকে এখন শুধু জিতলেই হবে না, ধারাবাহিক ভাবে জিততে হবে।চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ভারতের হাতে রয়েছে আরও আটটি টেস্ট। ২৩ আগস্ট কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের পর নভেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফরে দুটি ম্যাচ। এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজ। অর্থাৎ সামনে দীর্ঘ লড়াই। ইতিমধ্যেই ১০ টেস্টে চারটি হার হওয়ায় প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব এখন অনেক বেশি।হিসাব বলছে, বাকি আটটির মধ্যে সাতটি টেস্ট জিততে পারলে ভারতের পিসিটি হতে পারে ৬৮.৫২। কিন্তু ছয়টি জয় ও দুটি হার হলে তা নেমে যাবে ৬২.৯৬-এ। তাই গলের জয় ফাইনালের দরজা খুলে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই দরজায় পৌঁছনোর পথ এখনও অনেকটা বাকি।
গলে তাই ভারত পেল একসঙ্গে দু’টি বড় প্রাপ্তি—৬০০তম টেস্টে স্মরণীয় জয় এবং সুতারের মতো নতুন এক ম্যাচ-উইনারের আবির্ভাব। কিন্তু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছতে হলে এই জয়কে শুরুতেই থামিয়ে দিলে চলবে না। সামনে আরও আটটি পরীক্ষা। গলে স্বস্তি মিলেছে, ফাইনালের স্বপ্ন এখনও বেঁচে-কিন্তু ভুল করার জায়গা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। ছবি সৌজন্যে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম ফেসবুক

(Courtesy: Indian Cricket Team Facebook)
