‘আমার পরম শত্রুর ক্ষতি হলেও উৎসব করি না তবে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’,স্বরুপ গ্রেফতারিতে পরম

0



স্বরূপের বিশ্বাসের স্ব-রুপ উঠে এসছে বহুদিন আগেই। তবে তাঁর গ্রেফতার হওয়ার খবর পেতেই এ যেন এক অন্য মানচিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে।বহুদিনের অত্যাচার থেকে যেন স্বস্তি পেল গোটা ইন্ডাস্ট্রি।স্বরূপের রাজত্ব চলাকালীন ইন্ডাস্ট্রিতে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন একাধিক কলাকুশলী।একসময় ফেডারেশনের  স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির একাধিক পরিচালক।অভিযোগ ছিল,পরিচালকদের পেশাগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছেন ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পথেও লড়াই করেছিলেন অনেক পরিচালক।মামলা খারিজ হতেই অলিখিতভাবে ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিষিদ্ধ হতে হয় সেই পরিচালকদের। তাঁর মধ্য ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও।যদিও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি, তবু ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ অভিনেতার।তবে স্বরূপের পাওয়া ‘কর্মফল’ নিয়ে কী বললেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়?

পরমব্রত বলেন, “রাজনীতি যেন ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ন্ত্রণ না করে,সেটার লড়াইয়ে নেমেছিলাম।সিনেমা যেন সিনেমা জগতের লোকের হাতেই থাকে সেই আশাই করেছিলাম।যদি শেষ অবধি আমার পরিস্থিতি থাকত লড়াইটা করার,একদম সামনে থেকে লড়েছি নিজের সময়, শ্রম, অর্থ সবকিছু দিয়ে।প্রায় একবছর সম্পূর্ণ কর্মহীন ছিলাম।আমার ভাল লাগত যদি শেষ অবধি এটাকে চালাতে পারতাম।কিন্তু অন্যভাবে হয়েছে হয়তো।” স্বরূপের গ্রেফতার হওয়ার কথা উঠতেই তিনি বলেন,“ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।”এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের পংক্তি উদ্ধৃত করে বলেন,“যা হওয়ার তা হবে,যে আমারে কাঁদায় সে কি অগ্নি ছেড়ে রবে।”

তবে যাঁর বিরুদ্ধে তিনি অতীতে সরব ছিলেন,তাঁর বিপর্যয় নিয়ে কোনও উচ্ছ্বাস দেখাতে নারাজ পরমব্রত। তাঁর বক্তব্য,“আমার পরম শত্রু,অর্থাৎ যে আমার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে,তাঁর ক্ষতি হলেও উৎসব করতে নেই।কারণ শেষ অবধি যে কোনও জিনিসের বিচার ঈশ্বর করেন।আমি উৎসব করার কেউ নই। বিচারটা যে হয়েছে,সেটা নিয়ে ঈশ্বরকে মনে মনে ধন্যবাদ জানাতে হয়।”উল্লেখ্য,বুধবার একাধিক কারণে টলিপাড়ার নেতা স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেন আলিপুর থানার পুলিশ।খুনের চেষ্টা, মহিলার হেনস্থা, তোলাবাজি ও অস্ত্র আইন সহ একাধিক অভিযোগ দেয়ার হয় তাঁর উপর।এমনকি থানার সামনে ‘চোর’ স্লোগানও ওঠে।তাঁর গ্রেফতারের পর থেকেই শিল্পীরা এনেছেন একের পর এক সত্য।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *