আরজি কর কাণ্ডে ৩ আইপিএস সাসপেন্ড! ‘মেয়ের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল’
আরজি কর কাণ্ডে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। তদন্তে গাফিলতি, পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থতা এবং নিহত তরুণী চিকিৎসকের পরিবারকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ সামনে এনে তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখার্জি এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে তথ্যানুসন্ধান চলছিল, তার রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। যদিও মূল অপরাধ তদন্তে সরকার হস্তক্ষেপ করছে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। কারণ সেই তদন্ত বর্তমানে সিবিআইয়ের হাতে।
তবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের থেকেও বেশি চর্চায় উঠে এসেছে নিহত চিকিৎসকের মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথের বিস্ফোরক অভিযোগ। তিনি সরাসরি দাবি করেছেন, ‘প্রাক্তন সরকার আমার মেয়ের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অন্তত পদক্ষেপ নিয়েছেন। এটাই দুই সরকারের মধ্যে পার্থক্য’। রত্না দেবনাথের অভিযোগ, ইন্দিরা মুখার্জি সাংবাদিক সম্মেলনে মিথ্যা বলেছিলেন এবং অভিষেক গুপ্ত তাঁর বাড়িতে টাকা নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, ‘এখনও আসল মাথারা বাইরে রয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করলে সব সত্য সামনে আসবে’। তিনি আরও বলেন, তাঁর কাছে থাকা সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন। তাঁর কথায়, ‘ফাইল খোলা মানেই বিচারের পথে আরও এক ধাপ এগোনো’। আরজি কর কাণ্ডে তিন আইপিএস অফিসারের সাসপেনশনের পাশাপাশি নিহত চিকিৎসকের পরিবারের এই বিস্ফোরক অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক চাপ বাড়াল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
