এই গরমে কেন বাড়ছে জলশূন্যতা ও তাপজনিত ক্লান্তি? জানুন কারণ, লক্ষণ ও বাঁচার উপায়

0


সকাল থেকেই তীব্র রোদ, তার সঙ্গে আর্দ্রতার অস্বস্তি— গরমে কার্যত নাজেহাল সাধারণ মানুষ। বাড়ির বাইরে কয়েক মিনিট থাকলেই ঘাম, ক্লান্তি ও দুর্বলতায় হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই সময় সবচেয়ে বেশি বাড়ছে জলশূন্যতা ও তাপজনিত ক্লান্তির সমস্যা। শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যাওয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং যাঁরা দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?
শরীরে জলের মাত্রা কমে গেলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে বিভিন্নভাবে দেখা দিতে শুরু করে। প্রথমদিকে অনেকেই বিষয়টিকে সাধারণ ক্লান্তি বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু আসলে তখন শরীর সংকেত দিতে শুরু করে যে ভিতরে জলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, মাথা ঝিমঝিম করা, বারবার তেষ্টা পাওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘাম হওয়া— এগুলি জলশূন্যতার সাধারণ লক্ষণ। অন্যদিকে, তাপজনিত ক্লান্তির ক্ষেত্রে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমে পড়ে। তখন মাথাব্যথা, বমিভাব, পেশিতে টান ধরা, চোখে ঝাপসা দেখা বা হঠাৎ মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় রক্তচাপ কমে যায়, এমনকি কেউ অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন।

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকছেন?
এই গরমে সব মানুষেরই সতর্ক থাকা জরুরি হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি। শিশুদের শরীর খুব দ্রুত জল হারায় এবং তারা অনেক সময় নিজের সমস্যা বুঝে উঠতে পারে না। প্রবীণদের ক্ষেত্রেও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তুলনামূলক কমে যায়। এছাড়া ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ-এর মতো সমস্যায় ভোগা মানুষদের শরীর গরমে দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, বাইরে শ্রমের কাজ করেন এমন মানুষ-দের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

কীভাবে এই সমস্যা থেকে বাঁচা সম্ভব?

• সারাদিনে নিয়মিত অল্প অল্প করে পর্যাপ্ত জল খান

• ওআরএস, ডাবের জল, লেবুর শরবতের মতো ঠান্ডা পানীয় পান করুন

• তরমুজ, শসা, দই, বেদানার মতো জলসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন

• দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলুন

• বাইরে বেরোলে ছাতা, টুপি ও রোদচশমা ব্যবহার করুন

• হালকা রঙের ও ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন

• অতিরিক্ত চা, কফি ও সফট ড্রিংকস কম পান করুন

• দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে মাঝেমধ্যে ছায়ায় বিশ্রাম নিন

• শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিন

• শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখুন

কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি?
অনেক সময় মানুষ ক্লান্তি বা মাথা ঘোরাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু যদি অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তাপপ্রবাহের জন্য হিটস্ট্রোক-এর মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *