তেরঙা জড়িয়ে বিশ্বজয়ের উল্লাস, হার্দিক পান্ডিয়ার আবেগের বহিঃপ্রকাশে বিতর্কের ছায়া
বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত সাধারণত আনন্দ, আবেগ আর উচ্ছ্বাসের গল্প হয়ে থাকে। মাঠজুড়ে হাসি-কান্না, আলিঙ্গন, পতাকা আর গর্বের ছবি। কিন্তু কখনও কখনও সেই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই জন্ম নেয় বিতর্ক। তেমনই এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হওয়ার পর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল জয়ের উচ্ছ্বাস। সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছিলেন হার্দিক। শরীরে জড়িয়ে ছিল ভারতের তেরঙা পতাকা। পাশে ছিলেন তাঁর বান্ধবী মাহিকা শর্মা। নাচ, হাসি, ছবি-সব মিলিয়ে ছিল এক আবেগময় মুহূর্ত। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্তই পরে বিতর্কের জন্ম দেয়।

পুনের এক আইনজীবী ওয়াজিদ খান অভিযোগ করেন, জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে সেলিব্রেশনের সময় হার্দিক যে আচরণ করেছেন, তা জাতীয় পতাকার অবমাননা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিশ্বজয়ের মঞ্চে পতাকা জড়িয়ে নাচা এবং পরে মাঠে শুয়ে পড়ার দৃশ্য জাতীয় সম্মানের প্রতি অসম্মান হতে পারে। এই অভিযোগ জানিয়ে তিনি পুনের শিবাজি নগর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
তবে সমাজ মাধ্যমে এই নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া নেটিজেনদের।অনেকের মতে, তা ছিল নিছক এক আবেগঘন মুহূর্ত, একজন ক্রিকেটারের দেশের জন্য জেতার আনন্দের প্রকাশ। তাঁদের যুক্তি, যে পতাকার জন্য লড়াই করে মাঠে জয় এনে দিয়েছেন, সেই পতাকাই গায়ে জড়িয়ে উদযাপন করেছিলেন তিনি। আর সেই জয়েও কম ছিল না হার্দিকের অবদান। টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ২১৭ রান, বল হাতে ৯ উইকেট—গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে ভরসা দিয়েছেন তিনি। দু’টি অর্ধশতরান, ধারাবাহিক অলরাউন্ড পারফরম্যান্স-সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম স্তম্ভ। এমনকি আইসিসির টুর্নামেন্ট সেরা একাদশেও জায়গা পেয়েছেন এই তারকা অলরাউন্ডার। কিন্তু খেলাধুলোর বাইরেও একজন মানুষের গল্প থাকে-তার আবেগ, তার সেলিব্রেশন, তার ভুল বোঝাবুঝি।

বিশ্বজয়ের সেই রাতে হয়তো হার্দিক পান্ডিয়ার কাছে সবচেয়ে বড় অনুভূতি ছিল-দেশের জন্য কিছু করতে পারার আনন্দ। সেই আনন্দের মুহূর্তেই তেরঙা জড়িয়ে তিনি হয়তো বলতে চেয়েছিলেন, ‘এই জয় দেশের।’ ভেসেছিলেন ভালবাসায়, উচ্ছ্বাসে, আদরে।
কিন্তু কখনও কখনও ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্তেও বিতর্কের ছায়া এসে পড়ে। তবু ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে প্রশ্নটা রয়ে যায়-এটা কি সত্যিই অসম্মান, নাকি এক ক্রিকেটারের সীমাহীন আবেগের প্রকাশ? সময়ের সঙ্গে হয়তো বিতর্ক মুছে যাবে। কিন্তু সেই রাতে তেরঙা জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হার্দিকের ছবিটা-ভারতের বিশ্বজয়ের স্মৃতির সঙ্গেই থেকে যাবে।
