‘যার সঙ্গে রবিবার শুট করেছি, মঙ্গলবার তার শেষযাত্রায় যাওয়ার মতো মনের জোর নেই’, মুখ খুললেন অম্বরীশ
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুর পর থেকেই টলিপাড়ায় উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। শুটিং সেটে নিরাপত্তা, প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা থেকে শুরু করে সহ-অভিনেতাদের উপস্থিতি—সব কিছু নিয়েই চলছে বিতর্ক। এর মধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্যও। রাহুলের শেষযাত্রায় কেন দেখা গেল না তাঁকে? অবশেষে এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন অভিনেতা।
অবশেষে সেই নীরবতা ভেঙে সামনে এলেন অম্বরীশ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, ঘটনার দিন পর্যন্ত সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। অভিনেতা বলেন, “সকালে একসঙ্গে চা খেয়েছি, দুপুর পর্যন্ত শুট করেছি। বাড়ি ফেরার পথেই হঠাৎ সেই খবর পাই।”, বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময়ে রাহুলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলেও জানান অম্বরীশ। একই মেকআপ রুম সময় কাটানো থেকে শুরু করে সিনেমা, গান, সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘ আড্ডা, সব মিলিয়ে এক গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল তাঁদের মধ্যে।
এই দুর্ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, এখন সেই স্টুডিয়ো বা শুটিং ফ্লোরে ফিরে যাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব। “যেখানে একসঙ্গে এত স্মৃতি, সেখানে আবার গিয়ে অভিনয় করতে পারব না। অসুস্থ হয়ে পড়ব।”, স্বীকারোক্তি অম্বরীশের। এমনকি তিনি এও বলেন, এই ধারাবাহিকে কাজ না করলেই হয়তো এতটা কাছের হয়ে উঠতেন না রাহুলের।
তিনি বলেন এই ঘটনার পরই তিনি প্রযোজনা সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছেন, ওই পরিবেশে আর কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থাও।
এছাড়াও, গোটা ঘটনার পর প্রযোজনা সংস্থার বিভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন অম্বরীশ। তাঁর মতে, এত বড় একটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সকলের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে, যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের আরও ভেবেচিন্তে কথা বলা প্রয়োজন ছিল বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
শেষে রাহুলকে স্মরণ করে অম্বরীশ বলেন, এই ক্ষতি কখনও পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর এই চলে যাওয়া যেন অন্তত ভবিষ্যতে শ্যুটিং সেটে নিরাপত্তার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। সুষ্ঠু ভাবে যত দ্রুত সম্ভব তাঁর মৃত্যুর তদন্ত হবে, এই আশাই রাখছেন তিনি।
