শুটিং সেটে নেই একটা ফার্স্ট এইড বক্স , জ্বর হলেও নিজেকেই ওষুধ আনতে হয় : স্বস্তিকা

0

রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ১০ দিন পার। ৪৩ বছরের ছেলেটি গোটা টলিপাড়াকে স্তব্ধ করে চলে গিয়েছে। সঙ্গে রেখে গিয়েছেন কিছু অজানা প্রশ্ন। যার উত্তর খুঁজতে হন্যে হয়ে ছুটছে গোটা শিল্পীমহল। ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকে নায়িকার সঙ্গে মধুচন্দ্রিমার শুটিং করতে গিয়ে তালসারিতে জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এমনটাই বলছে।তবে একটাই প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে,শিল্পীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় ?একজন শিল্পী তাঁর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তার অভাবে মারা গিয়েছেন এই দায় কার ?এই প্রেক্ষিতে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের অস্বস্তিকর বাস্তবতা নিয়ে সরব হলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।নিরাপত্তা ,কাজের পরিবেশ সহ শিল্পীদের সুরক্ষা নিয়ে অকপটে নিজের মতামত জানান অভিনেত্রী।তিনি বলেন,”এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারও নয়।”

আডিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন ,”আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যখন আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছি, এত বছরে কলকাতার কোনও প্রযোজনা সংস্থার কাছে ‘ফাস্ট এইড বক্স’ দেখেনি।পা কেটে গেলে ব্যান্ডেড আনতে যাওয়া হয়, কারও জ্বর হলে জ্বরের ওষুধটা কিনতে পাঠানো হয়। সেই মুহূর্তে কোনও কিছুই ব্যবস্থা থাকে না। এটা এমন একটা ইন্ডাস্ট্রি যেখানে নিরাপত্তা নেই বলে শিল্পীর জলে তলিয়ে মৃত্যু হচ্ছে এবং পরে সেই শিল্পীর নামেই দোষ দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান,রাহুলকে হারালাম ছেলেটার প্রতি কারও কোনও সহানুভূতি নেই। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার পর তাঁর সহকর্মীরাও সহানুভূতির দেখানোর পরিবর্তে দায় এড়িয়ে গিয়েছেন। এমনকি যাঁরা দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁরাও বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন।তাছাড়াও,শুরু থেকেই মৃত অভিনেতাকে নেশাগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছিল।তিনি বলেন, “দায় এড়াতে প্রযোজনা সংস্থাও  দাবি করে, শুটিং শেষ হওয়ার পর অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে।”


ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন  অভিনেত্রী। তাঁর মতে, আগে শিল্পীদের ব্যান করে দেওয়া হত না কিংবা অধিকাংশ শিল্পীই রাজনীতিতে যোগদান করতেন না। কিন্তু এখন প্রায়শই ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা  দর্শকের মধ্যেও বিরক্তি তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন, “এখন খুব কম মানুষই আছেন যাঁরা শুধুমাত্র অভিনয়ের প্রতি নিবেদিত।” এছাড়াও  তিনি ইন্ডাস্ট্রির কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান,কোনও অনুষ্ঠান বা অ্যাওয়ার্ড শো হলে খুব সহজেই কাজ বন্ধ রাখা হয় অথচ শুটিং চলাকালীন একজন অভিনেতার মৃত্যুর মতো ঘটনায় কাজ বন্ধ হয় না। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি,অর্জুন দত্তের পরিচালনায় ‘বিবি পায়রা’ ছবিতে দেখা যাবে স্বস্তিকাকে।আগামী ১০ এপ্রিল মুক্তি পেতে চলা এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন পাওলি দাম,অনির্বান চক্রবর্তী ,অনিন্দ্য সেনগুপ্ত এবং সুব্রত দত্ত।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *