ভোটের ময়দানে মানদণ্ড নেই! প্রথম দফার ভোটে সম্পূর্ণ নিরক্ষর প্রার্থী ১৪ ! আবার ডক্টরেট ২০ জন
ভোটের দামামা বাজছে রাজ্য জুড়ে। প্রার্থীরা প্রচারে ব্যস্ত। নিজেদের ঢাক বাজছে সগর্বে। সবাই চাইছে জিততে। সাধারণ মানুষ যখন চিন্তা করছেন কাকে ভোট দেব, তখনই উঠে এল এক চমকপ্রদ তথ্য। যা মানুষকে হয়তো আবার ভাবাবে এই জেন জি যুগে। মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস। তারা চিত্র তুলে ধরেছে, তা একদিকে যেমন বাস্তবের প্রতিফলন, তেমনই প্রশ্ন উঠছে গণতন্ত্রের মানদণ্ড নিয়েও!
আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৭টি জেলার ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এরপর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ৭টি জেলার ১৪২ কেন্দ্রে। দুই দফা মিলিয়ে ৭০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় ১,৪৭৫ জন প্রার্থী লড়াইয়ে নেমেছেন। প্রচারের ঝড়ে সরগরম রাজ্য। কিন্তু এই উত্তাপের মধ্যেই সামনে এসেছে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্ময়কর পরিসংখ্যান। প্রথম দফার প্রার্থীদের মধ্যে ১৪ জন সম্পূর্ণ নিরক্ষর, নিজেদের নামটুকুও লিখতে পারেন না তাঁরা! আরও ২৯ জন প্রার্থী আছেন, যাঁরা কেবলমাত্র সই করতে পারেন, কিন্তু পড়াশোনার দিক থেকে কার্যত অশিক্ষিতই বলা যায়। মাত্র পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা ৩২! অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছেন ১৮০ জন! আর মাধ্যমিক স্তর মানে দশম শ্রেণি পেরিয়েছেন ২৪৬ জন। অন্যদিকে অবশ্য উচ্চশিক্ষার ছবিও রয়েছে। স্নাতক প্রার্থী ৩৬১ জন, স্নাতকোত্তর ২২৫ জন আর ডক্টরেট ডিগ্রিধারী প্রার্থী রয়েছেন ২০ জন।একই নির্বাচনী লড়াইয়ে এমন বিপরীত মেরুর শিক্ষাগত যোগ্যতা, যেন সমাজের প্রতিচ্ছবিই তুলে ধরছে।
বয়সের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য কম নয়। ২৫ থেকে ৩০ বছরের তরুণ প্রার্থী যেমন আছেন ১০৩ জন, তেমনই ৫০ ঊর্ধ্ব প্রার্থীর সংখ্যা ৪৫৩। এমনকি ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী ৪৯ জন আর ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত ২ জন প্রার্থীও রয়েছেন এই লড়াইয়ে। পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১,৩০৮, যেখানে মহিলা প্রার্থী মাত্র ১৬৭। এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, একজন জনপ্রতিনিধির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা কি জরুরি নয়? ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, গণতন্ত্রের মানোন্নয়নের জন্য এই বিষয়টাও ভাবা প্রয়োজন। তবে বাস্তবে যে কোনও বিধিনিষেধ নেই। ফলে একই ব্যালটে একদিকে ডক্টরেট, অন্যদিকে নিজের নাম সই করতেও অক্ষম প্রার্থী লড়াই জমে উঠেছে।
