করব- লড়ব- হারব রে! এইভাবেই পাল্টে যাচ্ছে যেন স্লোগান! হাফডজন ম্যাচ জয়হীন কেকেআর
সব বদলায়। অনেক পরিশ্রম হয় অনুশীলনে। অনেক শপথ নেওয়া হয়। কিন্তু ফলাফল সেই একই। ভক্তদের চোখে কেকেআর পরিণত হয়েছে কেকেহারে। এটাই তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কেকেআরকে অভ্যেস করিয়ে ফেলেছেন রাহানে অ্যান্ড কোং। হাফডজন ম্যাচ খেলল এ বার কলকাতা নাইট রাইডার্স। জয় কি জিনিস, কেমন আনন্দ জানলই না শাহরুখের দল। ভাবা যায়, লিগে শাহরুখের দল লাগাতার লাস্ট বয়। এরপরও মুখ বন্ধ করে রেখেছেন বলিউড বাদশা। তবে রাহানে অ্যান্ড কোংকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিচ্ছেন নেটিজেনরা। পরিস্থিতি এমন, বিপক্ষ দল এখন জিততে কেকেআরকেই বেশি পছন্দ করছে।

এই যেমন শুক্রবার রাতে গুজরাট টাইটান্স। নাইট রাইডার্সকে সামনে পেতেই হারিয়েছে আর লিগের লড়াইয়ে ভালভাবে ফিরে এসেছে। কেকেআরের এই ম্যাচেও সেই একই চিত্র। প্রথম থেকেই ছন্নছাড়া ব্যাটিং। অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে প্রথম বলেই ফিরে গেলে শুরুতেই ভেঙে পড়ে টপ অর্ডার। পাওয়ারপ্লেতেই তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় নাইটরা। দায়িত্বজ্ঞানহীন শট, পরিকল্পনার অভাব। এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একমাত্র লড়াইয়ের মুখ দেখান ক্যামেরন গ্রিন। ৫৫ বলে ৭৯ রানের ইনিংসে কিছুটা সম্মান রক্ষা হলেও, অন্য প্রান্তে কেউই সঙ্গ দিতে পারেননি। রভম্যান পাওয়েল (২৭) বা রমনদীপ সিং(১৭) সামান্য চেষ্টা করলেও ম্যাচের রূপরেখা বদলাতে পারেনি। ১৮০ রানে অলআউট হওয়া স্কোরবোর্ডে লড়াইয়ের ইঙ্গিত থাকলেও, বাস্তবে তা যথেষ্ট ছিল না।
বল হাতে যে পরিস্থিতি আরও করুণ। সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তী ছাড়া বাকি বোলাররা কার্যত রান বিলিয়েছেন। কোনও পরিকল্পনা নেই, লাইন-লেন্থে ধারাবাহিকতা নেই— ফলে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা অনায়াসেই ম্যাচ নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছে। শুভমান গিলের ৮৬ রানের ইনিংস খেলে ফেললেন অনায়াসেই। ১৯.৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে গুজরাট।
কেকেআরের ব্যাটিংয়ে ভরসা নেই, বোলিংয়ে ধার নেই, ফিল্ডিংয়েও উদাসীন! লড়াইয়ের মানসিকতাও জিরো। তাই সমর্থকরা উপহার পাচ্ছেন একরাশ বিরক্তি আর হতাশা। ঘিরে
তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের এমন করুণ অবস্থা সত্যিই বিরল। মরশুম যত এগোচ্ছে, প্লে-অফের আশা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। প্রশ্ন উঠছে, কোথায় হারিয়ে গেল সেই লড়াকু নাইট রাইডার্স?
