ঘরের মাঠে অবশেষে জয়ের হাসি, ফিনিশার রিঙ্কুর ব্যাটে ফিরল কেকেআরের আত্মবিশ্বাস
এই দিনটারই তো অপেক্ষায় ছিলেন কেকেআর ভক্তরা। কিন্তু জুটছিল শুধুই হতাশা। অক্ষয় তৃতীয়ায় অবশেষে ঘরের মাঠেই কামব্যাক ঘটল নাইট রাইডার্সের। টানা ব্যর্থতা আর সমালোচনার চাপের মাঝে অবশেষে ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে জয়ের মুখ দেখল কলকাতা নাইট রাইডার্স। সুপার সানডেতে ২ বল বাকি থাকতে রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটে হারিয়ে চলতি আইপিএল মরশুমে প্রথম জয় তুলে নিল নাইটরা। আর এই জয়ের নায়ক—একটাই নাম, রিঙ্কু সিং।

যশস্বী জয়সওয়াল ও বৈভব সূর্যবংশীর জন্য গ্যালারিতে গোলাপি ঢেউ উঠলেও, শেষ হাসিটা হাসলেন সেই সমর্থকরাই, যারা লাগাতার হারের পরও কেকেআরের পাশে ছিলেন। সমর্থন করতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান ৯ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে। শুরুটা ভালো করলেও পরে ধসে যায় তাদের ইনিংস। যশস্বী জয়সওয়াল ৩৯ এবং বৈভব সূর্যবংশী ৪৬ রান করলেও, এরপর আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। বল হাতে দাপট দেখান কার্তিক ত্যাগী, বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিন। কার্তিক ও বরুণ নেন তিনটি করে উইকেট।

১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুঃস্বপ্নের শুরুটা হয় কেকেআরের। প্রথম বলেই আউট হন টিম সেইফার্ট। পরের ওভারেই শূন্য হাতে ফিরে যান অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানেও। একের পর এক উইকেট পড়ে ৮৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় রাজস্থানের হাতে।
কিন্তু সেখান থেকেই বদলে যায় গল্প। ধৈর্য আর আগ্রাসনের নিখুঁত মিশেলে ইনিংস গড়েন রিঙ্কু। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ম্যাচে ফেরেন। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন অনুকূল রায়।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ৯ রান। স্নায়ুচাপের সেই মুহূর্তে পরপর দুই চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতান ফিনিশার রিঙ্কুই। ৩৪ বলে অপরাজিত ৫৩, শুধু ইনিংস নয়, এ যেন এক প্রত্যাবর্তনের গল্প।
এই জয়ে শুধু দুই পয়েন্টই নয়, ফিরে এল দলের আত্মবিশ্বাসও। ৭ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শেষ স্থান থেকে উঠে নবম স্থানে পৌঁছেছে কেকেআর। তবে প্লে-অফের লড়াইয়ে ফিরতে গেলে সামনে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে তাদের।
অধিনায়ক রাহানে ম্যাচ শেষে বলেন, কঠিন সময়েও সমর্থকদের পাশে পাওয়া দলকে নতুন শক্তি দিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘এই জয়টা সমর্থকদের জন্য।’
ইডেনে এদিন মঞ্চ ছিল বৈভবের, কিন্তু গল্পটা লিখলেন রিঙ্কু ও বরুণ। নাইটদের এই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়,এ এক নতুন শুরুর ইঙ্গিত।
