হোঁচট খেলে ধরে নেওয়ার মানুষ সৌরভ,ওঁর মতো বন্ধু পেলে নষ্ট হতেও রাজি : অনুজকে নিয়ে অকপট যিশু
টলিউডে বন্ধুত্বের গল্প অনেক আছে,কিন্তু যিশু সেনগুপ্ত এবং সৌরভ দাসের সম্পর্ক যেন সেই পরিচিত সংজ্ঞার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।একজন প্রতিষ্ঠিত তারকা,অন্যজন নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা।বয়সের ফারাক, অভিজ্ঞতার পার্থক্য—সবকিছুকে ছাপিয়ে তাঁদের সম্পর্ক আজ দাদা-ভাইয়ের।সেই বন্ধুত্বের সূত্রেই একসঙ্গে প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তোলা থেকে শুরু করে নতুন স্বপ্ন দেখা। নববর্ষের সময় দুজনের প্রযোজনা সংস্থা ‘হোয়াই সো সিরিয়াস’ – এর কথা প্রকাশ্যে আনেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত।সম্প্রতি,সেই প্রযোজনার সংস্থার প্রথম ছবি ‘অভিমান’-এর প্রচারে এসে সৌরভকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করলেন যিশু সেনগুপ্ত।কী বললেন অভিনেতা ?
আডিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের মাঝেই যিশু বলেন, “ওকে আমি মারধর করতে পারি আমার যখন ইচ্ছে।ও আমার থেকে ১২ বছরের ছোট।ওঁকে মারলে ও আমাকে মারবে না।অন্য কাউকে মারলে কিন্তু সে আমাকে মেরেও দিতে পারে।তবে যে সৌরভের সঙ্গে ২০১৫ সালে আলাপ হয়েছিল যেভাবে সে সৌরভ ২০২৬ এর সৌরভ এক নয়। এখনকার সৌরভের মধ্যে প্রচুর বদল এসেছে।”সৌরভকে নিয়ে নানা সময় নানা কথা শুনতে হয়েছে বলেও জানান যিশু।অনেকেই নাকি তাঁকে বলেছেন,সৌরভের সঙ্গে বেশি মেলামেশা করে তিনি ‘নষ্ট’ হয়ে যাচ্ছেন।সেই প্রসঙ্গে অভিনেতার স্পষ্ট জবাব,”অনেকেই বলে সৌরভ নাকি আমাকে নষ্ট করে দিচ্ছে,কিংবা ওর সঙ্গে মিশে আমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছি।কিন্তু এরকম নষ্ট হতে আমি রাজি আছি।কারণ যেখানে একটা ভাই পাওয়া যায়,একটা বন্ধু পাওয়া যায়,যেখানে হোঁচট খেলে ধরে নেওয়ার মানুষ পাওয়া যায়,সেখানে থেকে নষ্ট হতে আমার কোনও সমস্যা নেই।”
প্রসঙ্গত,দুই তারকার বন্ধুত্বের শুরুটা হয়েছিল সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগের (সিসিএল) মাঠে।সেখানে বাংলা দলের অধিনায়ক ছিলেন যিশু,আর সেই দলে খেলতেন সৌরভ।প্রথমদিকে একটি ঘটনার জেরে দু’জনের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল।পরে সেই ঘটনার জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন সৌরভ।কিন্তু সেই অস্বস্তির মুহূর্তই পরবর্তীতে বদলে যায় গভীর বন্ধুত্বে।সেই সময়ের কথা স্মরণ করে যিশু বলেন,“সিসিএলের মাঠে যখন প্রথম ওকে মানুষ হিসেবে দেখলাম,তখনই মনে হয়েছিল এই ছেলেটা অন্যরকম।ওর মধ্যে একটা আলাদা মানবিকতা আছে।সেখান থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়,তারপর ধীরে ধীরে দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়।”প্রযোজনা সংস্থার ভাবনা নিয়ে যিশুর বলেন,“তিন-চার বছর আগে সৌরভের মনে হয়েছিল ও একটা প্রযোজনা সংস্থা খুলবে।আমারও তখন একই ইচ্ছে ছিল।আমি ওকে বলেছিলাম,আমরা একসঙ্গে কিছু করি না কেন?তখন সৌরভ কিছুক্ষণ ভেবে বলেছিল এর থেকে ভাল আর কি হতে পারে?তারপর থেকেই আমাদের নতুন যাত্রা শুরু হয়।”সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় তাঁদের যৌথ উদ্যোগ এবং নতুন স্বপ্নের পথচলা।
উল্লেখ্য,যিশু ও সৌরভের এই প্রযোজনা সংস্থার অন্যতম বড় আকর্ষণ হল সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলিউডের বিশিষ্ট পরিচালক ও প্রযোজক মহেশ ভাট।ফলে শুরু থেকেই জাতীয় স্তরে কাজ করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত স্পষ্ট।বাংলা ছবি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাষার কনটেন্ট নির্মাণের ভাবনাও রয়েছে তাঁদের।সম্প্রতি,ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত তাঁদের প্রথম ছবি ‘অভিমান’ ১৯ জুন মুক্তি পেয়েছে।ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
