দেম্বেলের হ্যাটট্রিকের মহাবিস্ফোরণে নীল ঝড়, নরওয়েকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স
বিশ্বকাপের শুরুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হালান্ড। ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলের নাম যেন আড়ালেই পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বোস্টনের মঞ্চে নরওয়ের বিপক্ষে তিনি এমন এক পারফরম্যান্স উপহার দিলেন, যা বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিল, দেম্বেলে এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
ম্যাচের মাত্র ৩২ মিনিটের মধ্যেই হ্যাটট্রিক করে ফরাসি তারকা গড়ে তুললেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড। তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্যে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।
মা হারানোর শোকে প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশঁ দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। সহকারী কোচ গাই স্টিফানের অধীনে মাঠে নেমেও অবশ্য এক মুহূর্তের জন্য ছন্দ হারায়নি ফরাসিরা। শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে তারা। ম্যাচের ২২ সেকেন্ডেই এমবাপ্পের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সেটাই ছিল আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস।
সপ্তম মিনিটে এমবাপ্পের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিখুঁত বাঁকানো শটে গোলের সূচনা করেন দেম্বেলে। ২০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত আরেকটি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। নরওয়ে থেলো আসগার্ডের গোলে ব্যবধান কমালেও দেম্বেলের জাদু থামেনি। ৩২ মিনিটে ১৭টি নিখুঁত দলীয় পাসের পর অসাধারণ ফিনিশিংয়ে পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক।

এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে দেম্বেলে একাধিক রেকর্ডের মালিক হয়েছেন। ম্যাচ শুরুর ৩২ মিনিটে তিন গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে গত ৭২ বছরের দ্রুততম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন। ১৯৫৪ সালে অস্ট্রিয়ার এরিখ প্রবস্ট ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এছাড়া ১৯৯৪ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলারও এখন দেম্বেলে; তাঁর আগে এই কীর্তি ছিল জাস্ট ফন্টেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পের।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। যোগ করা সময়ে ব্র্যাডলি বারকোলার ক্রস থেকে দেজিরে দুয়ের হেডে আসে ফ্রান্সের চতুর্থ গোল। ৪-১ ব্যবধানের জয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউটে পৌঁছে যায় ফরাসিরা।
বিশ্বকাপের শুরুতে যাঁকে ঘিরে প্রশ্ন ছিল, সেই দেম্বেলেই এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা। গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা আর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে তিনি যেন নতুন করে জানিয়ে দিলেন—ব্যালন ডি’অর তাঁর হাতে কাকতালীয়ভাবে ওঠেনি; বড় মঞ্চে রাজত্ব করার সামর্থ্য এখনও অটুট।
