সুপার সাব মেসির জাদুতে আর্জেন্টিনার জয়, বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোলের মহাকীর্তি
আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির গল্প যেন শেষই হতে চায় না। এবার তিনি শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন না। কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁকে বিশ্রাম দিয়ে বেঞ্চে রেখেছিলেন। কিন্তু ম্যাচ যখন একটু জটিল হতে শুরু করেছে, তখনই বদলি হিসেবে নেমে আবারও নিজের জাদু দেখালেন ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকা। ৮০ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে শুধু আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানের জয়ই নিশ্চিত করেননি, গড়ে ফেলেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করার অভূতপূর্ব রেকর্ডও।
ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শুরুর একাদশে ৯টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। তবুও শুরু থেকেই ছিল তাদের একচেটিয়া দাপট। ৬ মিনিটে আলভারেসের পাস থেকে জিভানি লো সেলসো গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ১২ মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দির হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে ফাউলের পর পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন লো সেলসো। এরপর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আলবিসেলেস্তেরা। ৩১ মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে লাউতারো মার্তিনেস গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। চলতি বিশ্বকাপে এটা ছিল তাঁর প্রথম গোল।
২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে জর্ডন নতুন উদ্যমে ফিরে আসে। ৪৮ মিনিটে লো সেলসোর আরেকটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। এরপর ৫৫ মিনিটে ডান দিক থেকে হাদ্দাদের নিচু ক্রসে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে ব্যবধান কমান বদলি ফুটবলার মুসা আল-তামারি। সেই গোলেই ম্যাচে ফিরে আসে জর্ডন।
চাপ সামলাতে ৬০ মিনিটের দিকে মাঠে নামানো হয় অধিনায়ক মেসিকে। এরপর থেকেই আক্রমণে নতুন গতি পায় আর্জেন্টিনা। অবশেষে ৮০ মিনিটে আসে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ডি-বক্সের প্রায় ২৫ মিটার দূরে মেসিকে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ পায়ের নিচু, নিখুঁত শটে জর্ডনের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন মেসি। গোলকিপারের ভুল অবস্থান নেওয়ার সুযোগটাও নিখুঁতভাবে কাজে লাগান তিনি।
এই গোল ছিল চলতি বিশ্বকাপে মেসির ষষ্ঠ। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়লেন তিনি। এর আগে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জায়েরজিনহো টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছিলেন। এবার তাঁদের ছাপিয়ে এককভাবে ইতিহাসের শীর্ষে উঠে গেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ফ্রি-কিক থেকেও এটি ছিল তাঁর কেরিয়ারের ৭২তম গোল।
তবে এই জয়ের মাঝেও একটি পরিসংখ্যান ভাবাচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে একশোভাগ ম্যাচ জিতে নকআউটে ওঠার পর কখনও ট্রফি জিততে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। অতীতে তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছে। এবার সেই অস্বস্তিকর ইতিহাস বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নকআউট পর্বে নামবে স্কালোনির দল।
মেসির রেকর্ড, লো সেলসোর দুর্দান্ত ফ্রি-কিক, মার্তিনেসের প্রথম বিশ্বকাপ গোল এবং দলের আরেকটি দাপুটে জয়—সব মিলিয়ে নকআউটের আগে শক্তিশালী বার্তাই দিল আর্জেন্টিনা। আর ইতিহাসের পাতায় আরও একবার নিজের নাম সোনালি অক্ষরে লিখে রাখলেন লিওনেল মেসি।
