বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন! ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল প্যারাগুয়ে
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনটা ঘটেই গেল। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল প্যারাগুয়ে। বোস্টনের স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে ১২০ মিনিটের শেষে ১-১ সমতা থাকলেও টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ইতিহাস গড়ে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। আর এই অবিস্মরণীয় জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানিকে চাপে ফেলতে কাউন্টার অ্যাটাকের কৌশল নেয় প্যারাগুয়ে। প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে সেই পরিকল্পনাই সফল হয়। মিগুয়েল আলমিরনের নিখুঁত পাস থেকে ম্যাতিয়াস গ্যালারজার বাড়ানো বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুলিও এনসিসো।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে ৫৪ মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভাইর্টজের নিখুঁত ক্রসে কাই হাভার্টজের হেডে সমতা ফেরে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিবিরে।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ছিল জার্মানির হাতে। একের পর এক আক্রমণে তারা প্যারাগুয়ের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও প্রতিবারই সামনে দেওয়াল হয়ে দাঁড়ান অরলান্ডো গিল। নিয়মিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ৬টি অসাধারণ সেভ করেন তিনি, যার চারটিই ছিল বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া বিপজ্জনক শট। অতিরিক্ত সময়ের ১০২ মিনিটে জনাথন টাহের গোলও ভিএআরে বাতিল হলে নাটকীয়তা আরও বাড়ে।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর সেখানেই নিজের কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় রাত উপহার দেন গিল। প্রথম শটেই কাই হাভার্টজের প্রচেষ্টা দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিয়ে জার্মানিকে মানসিকভাবে পিছিয়ে দেন তিনি। পরে নিকলাস ভল্টেমাডের শটও আটকে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে রাখেন।
অবশ্য সুযোগ নষ্ট করেছে প্যারাগুয়েও। তাদের একটি শট বাইরে চলে যায়, আর একটি আটকে দেন অভিজ্ঞ ম্যানুয়েল নয়্যার। ফলে পাঁচটি করে শট শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। সেখান থেকে সাডেন ডেথে জার্মানির জনাথন টাহ ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে দিলে সুযোগ আসে প্যারাগুয়ের সামনে। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি হোসে কানালে। তাঁর সফল শটেই নিশ্চিত হয় প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়।
এই জয়ে শুধু শেষ ষোলোয় ওঠাই নয়, ২০০২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জার্মানির কাছে হারের প্রতিশোধও নিল প্যারাগুয়ে। ২৪ বছর আগের সেই স্মৃতি মুছে দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল তারা।
অন্যদিকে ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। এবার নকআউটে উঠলেও যাত্রা থেমে গেল প্রথম ধাপেই। বিশ্বকাপের টাইব্রেকারে অপরাজিত থাকার গর্বও ভেঙে গেল গিলের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে।
ডালাসের রাতটি তাই শুধু একটি জয়ের গল্প নয়, একজন গোলরক্ষকের কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্পও। অরলান্ডো গিলের হাতে ভর করেই বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনের জন্ম দিল।
