আন্সেলোত্তির কৌশল! শেষমুহূর্তেই জয়সূচক গোল! জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল
প্রথমার্ধে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল ব্রাজিল। মাঝমাঠে ছন্দহীনতা, আক্রমণে ধারহীনতা—সব মিলিয়ে জাপানের কাছেই বিদায়ের আশঙ্কাই ঘিরে ধরেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু তা হওয়ার নয়। বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ বদলে গেল ছবিটা। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পর যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল কার্লো আন্সেলোত্তির দল।
হিউস্টনের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শুরুটা অবশ্য ছিল জাপানের। ২৯ মিনিটে দানিলোর ভুল পাস কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠেন সানো। কাসেমিরোকে কাটিয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর দুর্দান্ত শটে কোনো সুযোগই পাননি আলিসন। জাপানের ম্যাচে একমাত্র অন-টার্গেট শটই এনে দেয় ১-০ ব্যবধান।

বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও প্রথমার্ধে ব্রাজিল ছিল নিষ্প্রভ। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের আক্রমণ সহজেই সামলে দেন গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি। অন্যদিকে রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ জাপান বারবার ব্রাজিলকে হতাশ করে।
দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে সেলেকাওরা। ৫৬ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডে সমতা ফেরান কাসেমিরো। প্রথমার্ধের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত যেন এক গোলেই করে ফেলেন অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার।
সমতায় ফেরার পর একের পর এক আক্রমণে জাপানের রক্ষণকে চাপে রাখে ব্রাজিল। ৬০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপরও এনদ্রিক, রায়ান ও ব্রুনো গুইমারেসদের আক্রমণে টালমাটাল হয়ে পড়ে জাপানের রক্ষণ, যদিও গোলের দেখা মিলছিল না।
সবাই যখন অতিরিক্ত সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের নিখুঁত পাস ধরে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে দারুণ বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। জিয়ন সুজুকির নাগালের বাইরে চলে যাওয়া সেই শটেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিল শিবির।
১০০ মিনিটের লড়াই শেষে শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের শেষ ষোলো। বিদায় নিতে হয় এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপানকে।
ম্যাচজুড়ে আরেকটি বড় আলোচনার বিষয় ছিল নেইমারের বেঞ্চে বসে থাকা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে চোট কাটিয়ে ফেরার পরও এদিন তাঁকে মাঠে নামাননি আন্সেলোত্তি। ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ জানান, অতিরিক্ত সময়ের কথা ভেবেই নেইমারকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে দল সমতায় ফেরার পর খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ব্রাজিলের হাতে চলে আসায় ছন্দ নষ্ট করতে চাননি তিনি। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়। নাটকীয় এই জয়ে আন্সেলোত্তির কৌশল আর মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের জাদুতেই বিশ্বকাপে এগিয়ে চলল ব্রাজিল।
