‘সব দেখে বমি উঠে আসছে, কারা এদের জন্ম দিচ্ছে?’, জেন-জি দের ভাষা-ভঙ্গিতে ক্ষুব্ধ কঙ্গনা
একটি পরীক্ষা শুধু নম্বরের হিসাব নয়, তার উপর নির্ভর করে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।তবে সেই পরীক্ষায় সামান্য অনিয়মই তৈরি করে শিক্ষার্থীদের জীবনে গভীর অনিশ্চয়তা।চলতি বছরের নিট প্রশ্নপত্র কারচুপির জেরে নষ্ট হয়েছে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যত।মৃত্যু হয়েছে বহু ছাত্র-ছাত্রীর। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলেছে ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলনকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষায় স্থায়ী সংস্কার।ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশের রাজনৈতিক মহলে বড় প্রভাব ফেলেছে।চাপের জেরে ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীও।আন্দোলন শেষ হওয়ার পর এ বার আন্দোলনকারীদের কিছু ভিডিয়ো নিয়ে সরব হলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। জেন-জি ও ককরোচ আন্দোলনকারীদের ভাষা, আচরণ এবং প্রতিবাদের ধরন নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।প্রতিবাদের ভাষা ও ভঙ্গিমাকে নিশানা করে তিনি বলেন, “সব দেখে বমি উঠে আসছে।”
নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “আমি জীবনে কোনওদিন এক জায়গায় এত কদর্যতা দেখিনি।জেন-জি রা যেভাবে কথা বলছে এবং যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে, জীবনে কখনও একসঙ্গে এতটা কুরুচিপূর্ণ, কর্কশ ও অরুচিকর দৃশ্য দেখিনি।প্রতিটি ফ্রেম এত কর্কশ ও কুরুচিপূর্ণ যে তা দেখে সত্যিই বমি উঠে আসছে।উফ…কারা এদের জন্ম দিচ্ছে, আর কীভাবেই বা বড় করছে?” তাঁর দাবি, প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও তার প্রকাশভঙ্গি শালীন হওয়া উচিত। আন্দোলনের নামে অশালীন ভাষা ও আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেই মনে করেন তিনি।
শুধু ভাষা বা আচরণ নয়, আন্দোলনের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত ‘ককরোচ’ শব্দটি নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী লেখেন, “ভারত এমন এক অপূর্ব দেশ, যেখানে বৈচিত্র্যের মধ্যেই সৌন্দর্য। এখানকার মানুষ সৌন্দর্য, শালীনতা ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আবরণে আবৃত।তোমরা নিজেদের ককরোচ বলো, তোমরা দেখতে এবং আচরণেও ঠিক তাদের মতোই। এর মধ্যে কোনও বৈপরীত্য বা ব্যঙ্গ নেই। বরং তোমরা নিজেদের নোংরামি, আবর্জনা আর কদর্যতা দিয়েই পৃথিবীকে ভরিয়ে তুলছ।” নিজের বক্তব্যের শেষে তিনি যোগ করেন, “এই রিলগুলো দেখে আমি মানসিকভাবে আহত।কিছুটা মানসিক শান্তি ও ডিজিটাল ডিটক্সের প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা-সহ একাধিক দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে নামে ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক।দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পড়ুয়া সেই আন্দোলনে যোগ দেন। টানা বিক্ষোভ, অনশন এবং কেন্দ্রের সঙ্গে একাধিক দফার বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে সিজেপি। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, তাদের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ করে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা প্রহ্লাদ যোশীকে।
