টলিউড চালানোর জন্য জনপ্রতিনিধির দরকার নেই,সব কিছুর রাজনীতিকরণ আমাদের ভবিতব্য হয়ে গিয়েছে:ঋত্বিক চক্রবর্তী
রাজনৈতিক মঞ্চে সরাসরি সক্রিয় না থাকলেও সামাজিক ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে তাঁর মন্তব্য বরাবরই নজর কাড়ে।সম্প্রতি পরিচালক পৃথা চক্রবর্তীর ছবি ‘ফেরা’ মুক্তির পর এক আড্ডায় ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি, শিল্প ও ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী।অভিনেতা কী ভাবেন ইন্ডাস্ট্রিতে চলা রাজনীতি নিয়ে ?
আডিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টলিউডের পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খোলেন ঋত্বিক।তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য,“টলিউডের সঙ্গে রাজনীতির একেবারেই কোনও রঙ থাকা উচিত নয়।কোনও ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রেই নয়,আমাদের ক্ষেত্রেও নয়।অভিনেতার মতে,যে কোনও সরকার শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য কিছু সুবিধা বা পরিকাঠামোগত সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু তার সঙ্গে রাজনৈতিক আনুগত্যের কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।তিনি বলেন,”সরকারের থেকে কিছু সুবিধা নেওয়ার থাকতেই পারে, কিন্তু সেখানে রাজনীতির সঙ্গে যোগ থাকার কারণ নেই।”
গত দেড় দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঋত্বিক।তাঁর কথায়,“সমস্ত কিছুর রাজনীতিকরণটা আমাদের একটা ভবিতব্য হয়ে গিয়েছে।এটা আমরা কেউই পছন্দ করি না। যখন যে সরকার যায়, তাঁদের গায়ে এই তকমা লেগে যায় যে তারা সব কিছুর রাজনীতিকরণ করেছে। গত ১৫ বছরেও আমরা সেটা দেখেছি।”তবে এই প্রবণতাকে সাধারণ মানুষও ইতিবাচকভাবে নেন না বলেই জানিয়েছেন অভিনেতা।তাঁর মতে, শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাই সবচেয়ে জরুরি।ঋত্বিক বলেন,“রূপা দি এবং রুদ্রদা খুব ভাল করে জানেন যে এই ইন্ডাস্ট্রিকে চালাতে কোনও জনপ্রতিনিধি বা বিধায়কের প্রয়োজন নেই।যদি কখনও সেই প্রয়োজন পড়ে, সেটাই চিন্তার বিষয়।”
রাজনীতিতে শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।ঋত্বিকের মতে, রাজনীতি একটি পূর্ণকালীন দায়িত্বের কাজ।তাই কেউ রাজনীতিতে এলে তাঁর মূল মনোযোগ সেখানেই থাকা উচিত। অভিনেতার বক্তব্য,“রাজনীতির ক্ষেত্রে আমরা বলি বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষকে রাজনীতিতে আসতে হবে।কিন্তু মানুষ এটা ভুলে যায় যে রাজনীতিতে এসে গেলে শুধু রাজনীতিই করতে হবে।এটা একটা সর্বক্ষণের কাজ।”ঋত্বিক বলেন,“বিশেষ করে কেউ যদি জনপ্রতিনিধি হন, তাঁর তো দায়িত্ব ওই কাজটাই করা। জনগণকেও ভাবতে হবে, যদি রাজনীতি কারও সাইড জব হয়ে থাকে, তাহলে তাঁকে ভোট দেওয়া উচিত নয়।”
এছাড়াও তিনি জানান,সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মন্তব্যকে কখনও বিরোধিতা হিসেবে দেখেন না অভিনেতা।তাঁর মতে, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা এবং প্রশ্ন করা গণতান্ত্রিক অধিকার।ঋত্বিকের কথায়,“রাজনৈতিক কোনও বিষয়ে মন্তব্য করাকে আমি কখনও বিরোধিতা বলে দেখি না। ওটা আমার একটা পর্যবেক্ষণ।কোনও দলের প্রতি আমার কোনও দায়বদ্ধতা নেই।আমি একজন নাগরিক হিসাবেই নিজেকে দেখি।যেটা দেখতে পাই,সেটা নিয়েই বলি।সেটা কোনও বিরাট প্রতিবাদও নয়। তাতেও লোকে সাবধান থাকতে বলেছে।এই ভয়টাই আমাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
