‘ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার দিন শেষ’, ব্যান কালচার নিয়ে বদলের ডাক টোটা-পাওলির
১৯৯৯ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘বাড়িওয়ালি’ ছবির প্রযোজনার পর বাংলায় ফেরেননি বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা প্রযোজক অনুপম খের। রাজ্যে পালাবদলের পর প্রযোজকের ভূমিকায় ফের বাংলায় ফিরলেন অনুপম খের।তাঁর প্রত্যাবর্তনের হাত ধরেই ঘোষণা হল ‘অনুপম খের স্টুডিও’ ও ‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’ প্রযোজিত নতুন ছবি ‘শুরু থেকে শুরু’। সম্প্রতি ,ছবির প্রথম ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনুপম খের সহ এই ছবির অভিনেতা রাহুল বসু, টোটা রায়চৌধুরী,অভিনেত্রী পাওলি দাম।তবে অনুষ্ঠানের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শুধু নতুন ছবি নয়, বরং বাংলা সিনেমার বর্তমান সংকট, কাজের পরিবেশ এবং বহুল চর্চিত ‘ব্যান কালচার’।সেদিন ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে খোলামেলা মতামত জানালেন টোটা রায়চৌধুরী ও পাওলি দাম।
টোটা রায়চৌধুরী বলেন,”যে সিস্টেমে গত ১২ বছর ধরে কাজ করেছি,সেই ব্যবস্থা আর চলবে না।এই ব্যবস্থাকে আরও প্রসারিত করতে হবে।কেউ যদি মনে করেন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখবেন,তাহলে সেই সময় শেষ হয়ে এসেছে।এই ইন্ডাস্ট্রি সবার জন্য খোলা থাকা উচিত।সবাই একসঙ্গে,সৃজনশীলভাবে কাজ করবে। আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতে ৩০ বছর ধরে কাজ করছি।খুব খারাপ সময়েও বছরে ৯০-১০০টি ছবি তৈরি হতো,এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে।এটা সত্যিই অনভিপ্রেত।” ব্যান কালচার প্রসঙ্গে টোটার স্পষ্ট বক্তব্য,”আমার মনে হয় এবার ব্যান কালচারটাই ব্যান হয়ে যাবে।যেভাবে মানুষ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে, শুধু সরকার নয়,শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরাও যেভাবে প্রতিবাদ করেছেন,তাতে আর কেউ সহজে এই ব্যান কালচার চালু করার সাহস করবেন বলে মনে হয় না।”
অন্যদিকে,অভিনেত্রী পাওলি দামও বাংলা ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন,”আমি খুবই আশাবাদী।ইন্ডাস্ট্রির একটা আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।একটা বিপ্লবও দরকার ছিল।এত ভাল টেকনিশিয়ান,এত ভাল শিল্পী কাজ পাবেন না বা নানা সমস্যার মধ্যে থাকবেন,এটা মেনে নেওয়া যায় না। যদি আমাদের মূল উদ্দেশ্য ভাল সিনেমা তৈরি করে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়,তাহলে বাকি সমস্যাগুলোরও সমাধান করতে হবে।”
এদিন ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানালেন অভিনেত্রী পাওলি দাম।তাঁর মতে, কোনও শিল্পীকে নিষিদ্ধ করা কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না। শিল্পীরা মুক্তচিন্তার মানুষ, তাই তাঁদের কাজের ক্ষেত্রেও মতপ্রকাশ ও সৃজনশীলতার স্বাধীনতা বজায় থাকা জরুরি।পাওলির বক্তব্য, কাজ করার স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই থাকা উচিত।একইসঙ্গে শিল্প ও রাজনীতিকে একসঙ্গে টেনে আনার বিরুদ্ধেও মত প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, রাজনীতিবিদদের কাজ রাজনীতি করা, আর শিল্পীদের কাজ শিল্পচর্চা। শিল্পকে রাজনীতিকরণ না করে শিল্পকে তার নিজস্ব পরিসরেই থাকতে দেওয়া উচিত বলেই তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য,’শুরু থেকে শুরু’ ছবিটি একটি আদ্যোপান্ত প্রেমের গল্প।ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা করা হয়।খুব শীঘ্রই ছবির শুটিং হবে বলেই জানিয়েছেন ছবির প্রযোজক সহ কলাকুশলীরা।তবে ছবির মুক্তির বিষয় নিয়ে এখনও প্রকাশ করেননি ছবির নির্মাতারা। ছবিটি পরিচালনার করছেন শমীক বন্দোপাধ্যায়।ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিন উপস্থিত হয়ে শুভকামনা জানিয়েছেন অভিনেত্রী তথা বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায় সহ অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
