জিয়াগঞ্জের ‘সোমু’ থেকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি– কেমন ছিল অরিজিৎ সিংয়ের ছোটবেলা?

0

২৫ এপ্রিল ১৯৮৭, মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে জন্ম ছেলেটির, যাঁকে আজ গোটা দেশ চেনে অরিজিৎ সিং নামে। যাঁর কণ্ঠ আজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বমঞ্চে। এত বড় মাপের শিল্পী হয়ে তিনি এখনও ভুলে যাননি নিজের শিকড়কে। এখনও তাঁকে দেখা যায় নিজের স্কুটারে চড়ে, জিয়াগঞ্জের অলি-গলিতে ঘুরে বেড়াতে। ছেলেবেলার বন্ধুদের সাথে পাড়ার মোড়ে আড্ডা দিতে। তবে ছোটবেলাটা কেমন ছিল জিয়াগঞ্জের ‘সোমু’র?

ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীত যেন ছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অরিজিৎ-এর বাবা সুরিন্দর কক্কর সিং ছিলেন পঞ্জাবি শিখ, আর মা অদিতি সিং বাঙালি হিন্দু। সঙ্গীত শেখার শুরু হয়েছিল অনেক ছোট বয়সে, বাড়ির মধ্যে থেকেই। মা-ই ছিলেন ছোট্ট অরিজিৎ-এর অনুপ্রেরণা। তাঁর মাসি ছিলেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে পারদর্শী। দিদা গান গাইতেন, মামা তবলা বাজাতেন, আর মা-ও যুক্ত ছিলেন সঙ্গীতচর্চার সঙ্গে। ফলে খুব ছোটবেলা থেকেই সুরের জগৎ-এ হাতেখড়ি অরিজিৎ-এর।

মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই শুরু হয় তাঁর সঙ্গীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। রাজেন্দ্র প্রসাদ হাজারির কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, ধীরেন্দ্র প্রসাদ হাজারির কাছে তবলা, আর বীরেন্দ্র প্রসাদ হাজারির কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও পাশ্চাত্য সুর, সব মিলিয়ে ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধারার সঙ্গীতে পাকা হাতে শিক্ষা পেয়েছেন তিনি। এমনকি মাত্র নয় বছর বয়সেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে কণ্ঠ প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি বৃত্তি লাভ করেন অরিজিৎ। এত কম বয়সেই, এই সাফল্য তাঁর প্রতিভার প্রমাণ দেয়।

পড়াশোনায় তিনি ভাল হলেও মন পড়ে থাকত সুরের দুনিয়াতেই। রাজা বিজয় সিং হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে শ্রীপত সিং কলেজে ভর্তি হলেও, ধীরে ধীরে তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে সঙ্গীত। বড় হতে হতে তিনি যেমন শুনেছেন পাশ্চাত্য সুর, তেমনই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বড়েগুলাম আলি খান, উস্তাদ রশিদ খান বা জাকির হোসেনের মতো কিংবদন্তিদের কাছ থেকে।

২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’-এ অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও, সেই পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। দীর্ঘদিন ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকে কাজ, সঙ্গীত প্রোগ্রামিং, সহকারী হিসেবে কাজ, সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেছেন তিনি। পরবর্তীতে ‘ফির মহব্বত’ সিনেমার মধ্যে দিয়ে বলিউডে প্লেব্যাক শুরু করলেও, ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আশিকি ২’ ছবির, ‘তুম হি হো’ তাঁকে পৌঁছে দেয় সাফল্যের শীর্ষে। তারপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। একের পর এক হিট গান, পুরস্কার, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সবই এসেছে অরিজিৎ-এর ঝুলিতে।

তবে এত সাফল্যের পরও অরিজিৎ আজও সেই জিয়াগঞ্জের ‘সোমু’। মুম্বইয়ের চাকচিক্য ছেড়ে নিজের শহরেই থাকতে ভালোবাসেন তিনি। সাধারণ জীবনযাপন, মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা, এই সরলতাই যেন তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *