মায়ের মৃত্যুর পর আত্মহত্যার চেষ্টা,নদীতে ডুবেও কীভাবে বাঁচলেন গোবিন্দা?

0



মা ও সন্তানের অটুট বন্ধন যেন কোনও শব্দেই প্রকাশ করা যায় না। এরকমই সম্পর্ক ছিল বলিউডের অভিনেতা গোবিন্দা ও তাঁর মা নির্মলা দেবীর সঙ্গে।সেই মাকে হারানোর শোকই একসময় ভেঙে দিয়েছিলেন অভিনেতা গোবিন্দাকে। মা নির্মলা দেবীকে হারানোর পর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল তাঁর মাথার উপর।মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন গোবিন্দা।জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায় থেকে কীভাবে ফিরে এসেছিলেন, সম্প্রতি সেই ঘটনাই অকপটে জানালেন অভিনেতা গোবিন্দা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে গোবিন্দা বলেন, “আমি প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম। সেই সময় মনে হয়েছিল, সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে, এটাই শেষ।”প্রসঙ্গত,অভিনেতার মা নির্মলা দেবী ছিলেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিল্পী এবং অভিনেত্রী। ১৯৯৬ সালের ১৫ জুন ৬৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। মায়ের সঙ্গে গোবিন্দার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। তাই তাঁর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি অভিনেতা। সেই শোক থেকেই নর্মদা নদীর দিকে চলে গিয়েছিলেন তিনি।

গোবিন্দার কথায়, “আমি নর্মদা নদীর কাছে ছিলাম। ভেবেছিলাম, নদীর মধ্যে আরও একটু এগিয়ে যাব, আর তাহলেই হয়তো মায়ের সঙ্গে আবার দেখা হবে। তাই আমি নদীর জলে নেমে গিয়েছিলাম।”তিনি কি সত্যিই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন? উত্তরে গোবিন্দা বলেন, “এক অর্থে তাই। আমি মায়ের সঙ্গে ভীষণভাবে জড়িত ছিলাম। তাঁকে আমি খুব বেশি ভালবাসতাম।” সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনদর্শনও স্পষ্ট করেন গোবিন্দা।অভিনেতার বিশ্বাস, মানুষ মৃত্যুকে যে ভাষায় আত্মহত্যা বলে ব্যাখ্যা করেন, তা হয়তো তাঁদের নিজস্ব উপলব্ধি। কিন্তু তাঁর কাছে জীবন কখনও থেমে যায় না। সময়ের সঙ্গে জীবন শুধু নতুন মুখ ও নতুন রূপে ফিরে আসে।


জীবনের কঠিন সময় তাঁকে পথ দেখিয়েছিল এক সাধু।নদীর জলে তাঁকে ডুবতে দেখে ওই সাধু তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন এবং ডাকতে থাকেন।সাধুর সেই ডাকেই যেন হুঁশ ফেরে অভিনেতার। নদী থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।এরপরই নিজের কাজের কথা ও নতুন করে বাঁচার কথা ভাবতে শুরু করেন গোবিন্দা। উপলব্ধি করেন, তাঁর জীবনে এখনও দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে তাঁর সন্তানদের কথা মনে পড়ে যায়। অভিনেতার কথায়, “আমি বুঝতে পারলাম, কেউ একজন আমাকে বলেছিল যে আমি ভুল কাজ করছি। তখন উপলব্ধি করলাম, আমাকে আমার সন্তানদের জন্য বাঁচতে হবে।”

গোবিন্দা জানান, সেই মানসিক অবস্থা থেকে স্বাভাবিক হতে তাঁর প্রায় ১০-১৫ দিন সময় লেগেছিল। সময়ের সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন, জীবনে এখনও অনেক কিছু বাকি। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারাটাকেই নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করেন অভিনেতা। তাঁর কাছে তারকা-খ্যাতি নয়, পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং মায়ের ইচ্ছেগুলি পূরণ করাই ছিল ‘সত্যিকারের হিরোগিরি’।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *