নতুন সরকারের আমল, টলিপাড়ায় ফিরল কাজের ছন্দ! মামলা নিষ্পত্তির ঘোষণা হাইকোর্টের
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, দ্বন্দ্ব এবং আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তির খবর টলিপাড়ায়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলচ্চিত্র শিল্পে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানাল কলকাতা হাই কোর্ট। এক রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরিচালকদের একাংশের দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি ঘোষণা করলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। আদালতের এই সিদ্ধান্তে টলিউডে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল বলে মনে করছে টলিউডের একাংশ।
বুধবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর আদালতকে জানায়, গত দেড় মাস ধরে টলিপাড়ায় শান্তিপূর্ণভাবে শুটিং চলছে। দপ্তরের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ও এক্স-অফিসিও ডিরেক্টর অব ফিল্মস-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রযোজক, টেকনিশিয়ান, শিল্পী এবং বিভিন্ন গিল্ডের মধ্যে সমন্বয় বজায় রয়েছে। কাজে বাধা, অশান্তি বা শুটিং বন্ধ হওয়ার মতো কোনও অভিযোগ দপ্তরের কাছে আসেনি। ভবিষ্যতেও যাতে এই সুস্থ পরিবেশ বজায় থাকে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, টলিউডে যাতে নির্বিঘ্নে কাজ চলতে পারে, তা নিশ্চিত করতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরকে নিয়মিত পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হবে। কোনও পরিচালক, শিল্পী বা কলাকুশলী যাতে বাধাবিঘ্ন ছাড়াই নিজেদের পেশাগত কাজ করতে পারেন, সেই বিষয়টা নিশ্চিত করার দায়িত্বও দপ্তরের। এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গেই এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলার নিষ্পত্তি ঘোষণা করে আদালত।
উল্লেখ্য, টলিপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালক গিল্ড ও ফেডারেশনের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে একাধিক পরিচালক কাজে বাধার অভিযোগ তুলেছিলেন। পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, কিংশুক দে-সহ কয়েকজন আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির প্রভাবের কারণে তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। সেই ঘটনাকে ঘিরে আদালত রাজ্যকে একাধিকবার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক করার উপর জোর দেয়। অবশেষে রাজ্যের রিপোর্টে পরিস্থিতির উন্নতির কথা উঠে আসায় এবং কোনও নতুন অভিযোগ না থাকায় মামলার নিষ্পত্তি ঘোষণা করল হাই কোর্ট। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও শিল্পী বা কলাকুশলী কাজের ক্ষেত্রে বাধার মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। টলিউডে সুস্থ কর্মপরিবেশ বজায় রাখাই এখন তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
