‘গজনি’ করতে আমিরকে কীভাবে রাজি করেছিলেন প্রদীপ রাওয়াত?মৃত্যুর পর প্রকাশ্যে গোপন তথ্য

0


পর্দায় কখনও তাঁর চোখে ছিল খলনায়কের ভয়, কখনও আবার ফুটে উঠেছে সাহস আর দৃঢ়তা।‘গজনি’-তে তাঁর গজনি চরিত্র দর্শকের মনে পাকাপাকি জায়গা করেছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।প্রয়াত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত ‘গজনি’-র খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে একসময় দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।মঙ্গলবার ‘গজনি’ খ্যাত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।তবে শুধু ‘গজনি’-র খলনায়ক হিসেবেই নয়, বরং আমিরকে ছবিতে অভিনয়ের জন্য রাজি করানোর নেপথ্যেও ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।মৃত্যুর পর ফের সামনে এসেছে প্রদীপের বলা সেই অজানা গল্প ,ঠিক কীভাবে তাঁর কথায় ‘গজনি’ ছবিটি করতে রাজি হয়েছিলেন আমির?

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দি, তামিল, তেলুগু, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষার একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রদীপ। তামিল ও তেলুগু ভাষার ‘গজনি’-তে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রদীপ রাওয়াত। সেই সময় এস এস রাজামৌলীর ‘সাই’ ছবির শুটিং চলছিল হায়দরাবাদে। সেখানেই প্রথম তাঁর সঙ্গে দেখা হয় ‘গজনি’-র পরিচালক এ আর মুরুগাদোসের। প্রদীপের মেকআপ রুমের দরজার আড়াল থেকে বারবার তাঁকে দেখতেন মুরুগাদোস।প্রদীপের কথায়, তাঁর মধ্যে সেই সময় পরিচালকদের মতো প্রচলিত ব্যক্তিত্বও ছিল না। তবে প্রদীপকে ছবিতে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। অভিনেতা জানান, এর আগে তিনি সলমন খানের সঙ্গে ‘বাঘি: আ রেবেল ফর লাভ’ সহ বহু ছবিতে কাজ করেছেন। কিন্তু সলমনের মেজাজের কথা মাথায় রেখে প্রয়াত অভিনেতা  বলেন, “সলমন একটু রাগী স্বভাবের। তাই মনে হয়েছিল, মুরুগাদোসের সঙ্গে ওর সমস্যা হতে পারে। কিন্তু আমিরকে আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে চিনি। ওকে কখনও কাউকে চিৎকার করতে দেখিনি। এমনকী ও কখনও খারাপ ভাষাও ব্যবহার করে না। তাই আমিরের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

তবে সরাসরি আমিরকে হিন্দি ‘গজনি’-র প্রস্তাব দেননি প্রদীপ। প্রথমে তাঁকে তামিল ছবিটি দেখানোর কথা বলেন। আমির যে বিষয়টি বুঝে গিয়েছিলেন, সেটাও মজার ছলে জানান প্রদীপ রাওয়াত। তাঁর কথায়, “আমির খুব চালাক। ও বিষয়টা বুঝে গিয়েছিল এবং বারবার সময় নিচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ও ছবিটা করেছিল, কারণ ও আমার কথা ফেলতে পারেনি।”এরপর ২০০৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পায় আমির খান অভিনীত ‘গজনি’। বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পায় ছবিটি এবং ঘরোয়া বাজারে ১০০ কোটি টাকা ব্যবসার গণ্ডি পেরনো প্রথম বলিউড ছবি হয়ে নজির তৈরি করে।

মঙ্গলবার সন্ধেবেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৪ বছর বয়সে প্রয়াত হন বর্ষীয়ান অভিনেতা। প্রথমে মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। পরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভিওয়ান্ডির একটি ক্যানসার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।প্রদীপ রাওয়াতের প্রয়াণের খবর অভিনেতা যশপাল শর্মা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশ্চিত করেন।তিনি লেখেন, “প্রদীপ রাওয়াত, আমাদের গজনি ও লগান-এর দেবা আর নেই। ওর আত্মার শান্তি কামনা করি।”দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন অভিনেতা। প্রায় চার বছর আগে মারণরোগকে জয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু ফের সেই মারণ রোগের শিকার হয়ে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন অভিনেতা।শেষমেশ স্ত্রী ও ছেলে বিক্রমাদিত্যকে রেখে গেলেন অভিনেতা।

১৯৫২ সালের ২১ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্ম প্রদীপ রাওয়াতের। ১৯৮৫ সালে রাজ বব্বর অভিনীত ‘অ্যায়েতবার’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিনয়জীবন শুরু করেন তিনি। তবে বি আর চোপড়ার জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ অশ্বত্থামার চরিত্র তাঁকে পৌঁছে দেয় দর্শকের ঘরে ঘরে।তবে ‘গজনি’-তে গজনির ভূমিকায় খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে দেশজুড়ে বিপুল পরিচিতি পান অভিনেতা। এছাড়াও ‘সরফরোশ’,’লগান’, ‘সিং ইজ ব্লিং’,‘সরাইনোডু’, ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ – এর মতো ছবিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।এস এস রাজামৌলী পরিচালিত দক্ষিণী ছবি ‘সাই’ তাঁর পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ। এই ছবির জন্য তিনি তেলুগু বিভাগে সেরা খলনায়ক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পান। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সিনেমা হারাল এক দক্ষ অভিনেতাকে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *