দেশঁর যুগ শেষ, জিদানের হাতে ফ্রান্স, এবার কি ইতালির ডাগআউটে দেখা যাবে গুয়ার্দিওলাকে?
ফুটবলে শূন্যস্থান বলে কিছু থাকে না। একজন বিদায় নিলে আরেকজন এসে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। ইতিহাসও ঠিক এভাবেই এগিয়ে চলে। দিদিয়ের দেশঁর দীর্ঘ ও সফল অধ্যায়ের পর এবার ফ্রান্স জাতীয় দলের ডাগআউটে শুরু হচ্ছে আরেক কিংবদন্তির যাত্রা। নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিতে চুক্তিতে সই করেছেন জিনেদিন জিদান। একই সময়ে ইউরোপের আরেক ফুটবল শক্তিধর ইতালিতেও শুরু হয়েছে নতুন কোচ খোঁজার দৌড়। আর সেই তালিকার একেবারে ওপরেই ঘুরছে পেপ গুয়ার্দিওলার নাম।
ইতালির খ্যাতনামা ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন জিদান। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিদিয়ের দেশঁর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন ৫৪ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। প্রায় ১৪ বছর ফ্রান্সের কোচ ছিলেন দেশঁ। তাঁর হাত ধরেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স, ২০২২ সালে রানার্স-আপ হয় এবং সর্বশেষ বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপজয়ী দেশঁ কোচ হিসেবেও ফরাসি ফুটবলের অন্যতম সফল নাম হয়ে থাকবেন। এবার সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো জিদানের হাতে। কোচ হিসেবে তাঁর সাফল্যও ঈর্ষণীয়। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং দুটি লা লিগা জিতিয়েছেন তিনি। আর খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরো জয়ের নায়ক ছিলেন জিদান। ফলে ফ্রান্সের নতুন প্রজন্মকে ঘিরে তাঁর ওপর প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া।
অন্যদিকে, ইতালির ফুটবলেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। টানা তিনটি বিশ্বকাপে জায়গা করতে না পারার হতাশা কাটিয়ে নতুনভাবে দল গড়তে চাইছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে পেপ গুয়ার্দিওলাকে আনার চেষ্টা চলছে। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো নিশ্চিত করেছেন, গুয়ার্দিওলার সঙ্গে ইতোমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রচলিত আর্থিক কাঠামোর বাইরে গিয়েও তাঁকে আনার চেষ্টা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গত এপ্রিলে জেনারো গাত্তুসো দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই শূন্য রয়েছে ইতালির কোচের পদ। সম্ভাব্য তালিকায় রবের্তো মানচিনি ও আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও রয়েছে। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গুয়ার্দিওলাই।
এখন প্রশ্ন একটাই, ফ্রান্সে যেমন শুরু হচ্ছে জিদানের নতুন যুগ, তেমনই কি ইতালির হৃতগৌরব ফেরাতে ডাগআউটে দেখা যাবে পেপ গুয়ার্দিওলাকে? সেই উত্তর জানার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
