বিমানে টিকিট না পেয়ে ট্রেনেই ফেরেন ছদ্মবেশে, বাড়িতে বাবার গলায় পরালেন বিশ্বকাপের মেডেল

0

বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাসে যখন দেশ মাতোয়ারা, অনেক ক্রিকেটারই যখন সেলিব্রেশনে ব্যস্ত, তখন কিন্তু ভারতীয় অলরাউন্ডার শিবম দুবে যেন অন্য পথ বেছে নেন।  ট্রফি জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেও তাঁর মনে ছিল একটাই টান, ঘরে ফেরা। পরিবারের কাছে ফেরা। আর সেই ফেরাটাও ছিল একেবারে সিনেমার গল্পের মতো।

আমেদাবাদ থেকে মুম্বই ফেরার কোনও বিমানের টিকিট পাওয়া যায়নি। অনেকেই হলে হয়তো অপেক্ষা করতেন, অথবা চার্টার্ড ফ্লাইট খুঁজে নিতেন। কিন্তু দুবে অপেক্ষা করেননি। মাথায় টুপি, মুখে মাস্ক, ফুলহাতা জার্সি পরে কার্যত ছদ্মবেশে তিনি স্ত্রী ও এক বন্ধুকে নিয়ে উঠে পড়লেন ট্রেনের থার্ড এসি কামরায়। ভোর পাঁচটা দশের ট্রেন। ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম। গাড়িতে বসে অপেক্ষা, ট্রেন ছাড়ার পাঁচ মিনিট আগে চুপচাপ উঠে পড়া – সব মিলিয়ে যেন নিঃশব্দ এক যাত্রা, বিশ্বজয়ী নায়কের। ট্রেনে উঠে সোজা উপরের বার্থে চলে গিয়েছিলেন তিনি। যাত্রাপথে কেউ তাঁকে চিনতেও পারেননি। এমনকি টিকিট পরীক্ষক নাম দেখে সন্দেহ করলেও পরিস্থিতি সামলে দেন তাঁর স্ত্রী। ফলে গোটা পথটাই কেটে যায় সাধারণ এক যাত্রীর মতোই।

কিন্তু এই গল্পের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটা ঘটেছিল বাড়ি ফিরে।মুম্বইয়ে পৌঁছে, সব কোলাহল থেকে দূরে, শিবম দুবে একটি ছবি পোস্ট করেন সমাজমাধ্যমে। সেখানে দেখা যায়—তিনি নিজের বিশ্বকাপ জয়ের মেডেলটা পরিয়ে দিচ্ছেন বাবার গলায়। ছবির ক্যাপশনে লেখা, ‘তুমিই আমার আসল নায়ক’।সেই এক মুহূর্তেই যেন বোঝা গেল, বিশ্বজয়ের উজ্জ্বলতার আড়ালে একজন ছেলের হৃদয়ের জায়গাটা কোথায়। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুবের অবদানও কম নয়। ৯ ম্যাচে ২৩৫ রান, স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৭০-ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ব্যাটে গুরুত্বপূর্ণ রান, বল হাতে পাঁচ উইকেট, এমনকি সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ওভারও তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্বও পালন করেছেন ঠান্ডা মাথায়।

তবু ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের থেকেও বড় হয়ে উঠেছে তাঁর সেই সহজ, মানবিক মুহূর্তগুলো। ট্রেনের থার্ড এসিতে নিঃশব্দ যাত্রা, আর বাড়ি ফিরে বাবার গলায় বিশ্বজয়ের মেডেল তুলে দেওয়া।  হয়তো এটাই আসল নায়কোচিত কাজ। মাঠে বিশ্বকাপ জেতা যায়, কিন্তু মানুষের মন জেতা যায় এই ছোট ছোট মুহূর্তেই।
বিশ্বকাপের ট্রফি দেশের, কিন্তু সেই মেডেলের আসল ঠিকানা-বাবার গলা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *