কর্মবিরতি প্রত্যাহার হলেও ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর বিরুদ্ধে আপাতত বয়কট ঘোষণা টলিউড শিল্পীদের

0

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে কার্যত একজোট হয়ে গেল টলিপাড়া। শুটিং চলাকালীন এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শিল্পী-কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে। সেই প্রেক্ষিতে প্রথমে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হলেও, মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় ম্যারাথন বৈঠকের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় আর্টিস্ট ফোরাম। তবে একইসঙ্গে কঠোর অবস্থান নিয়ে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’-এর সঙ্গে সমস্ত কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালের পর থেকেই টালিগঞ্জের বিভিন্ন স্টুডিওতে ছিল থমথমে পরিবেশ। যেখানে প্রতিদিন লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ব্যস্ততা চোখে পড়ে, সেখানে এদিন কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে শুটিং ফ্লোর। অভিনেতা থেকে টেকনিশিয়ান-সকলেই এক হন বৈঠকে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কী কী করণীয়।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, যীশু সেনগুপ্ত, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক ও কলাকুশলীরা। পাশাপাশি ছিলেন ইম্পা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত এবং ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, যতদিন না রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ্যে আসছে, ততদিন ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর সঙ্গে কোনও শিল্পী বা টেকনিশিয়ান কাজ করবেন না। এরমধ্যেই ওই প্রযোজনা সংস্থার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ সিরিয়াল বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং চলতি ধারাবাহিক ‘চিরসখা’র শুটিংও স্থগিত রাখা হয়েছে। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘কাজ বন্ধ থাকবে না, কিন্তু যে প্রযোজনা সংস্থা এখনও পর্যন্ত এই মৃত্যুর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, তাদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখা হবে না। আমরা জানতে চাই, সেইদিন শুটিং সেটে ঠিক কী ঘটেছিল।’ তাঁর কথায়, এই ঘটনা গোটা ইন্ডাস্ট্রির চোখ খুলে দিয়েছে। একইভাবে আর্টিস্ট ফোরামের সভাপতি রঞ্জিত মল্লিকও প্রশ্ন তোলেন, কী পরিস্থিতিতে একজন শিল্পীকে প্রাণ হারাতে হল। তিনি জানান, এটা কোনও ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুটিং সেটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সর্বাগ্রে জরুরি। সেই লক্ষ্যেই দ্রুত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করা হবে এবং সমস্ত শিল্পী ও টেকনিশিয়ানের জন্য বিমা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে’।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় শুধু বিচারের দাবিই নয়, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও শিল্পী বা টেকনিশিয়ান এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, সেই দিকেও সমান জোর দিচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি। এরমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে শুটিংয়ের ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের কথাও ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, কর্মবিরতি উঠে গেলেও প্রতিবাদের সুর থামেনি টলিপাড়ায়। রাহুলের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে একসুরে সরব বাংলা চলচ্চিত্র জগত।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *