চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্প্যানিশদের কাছে হতাশার! ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টারেই থামল ২ স্প্যানিশ জায়ান্ট

0



ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে বিরল এক অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে রইল এ বারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। প্রথমবারের মতো একই মরশুমে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিল স্পেনের দুই মহারথী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপিয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে এতদিন এমন দৃশ্য কখনও দেখেনি স্প্যানিশ ফুটবলভক্তরা।
দুই দলই লড়াই করেছে। আর দু’দলের ভক্তরাই ম্যাচ শেষে হতাশ হয়েছে। রুদ্ধশ্বাস লড়াই করেও এ বার আর কামব্যাকের রূপকথার গল্প লিখতে পারেনি রিয়াল। রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়ালকে মাথা নীচু করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে। মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে ৪-৩ গোলে হেরেছে কার্লো আন্সেলোত্তির দল। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে সেমিফাইনালে উঠেছে জার্মান জায়ান্টরা।
অথচ ম্যাচের শুরুতেই আরদা গুলেরের জোড়া গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল। নয়্যারের ভুল পাস থেকে মাত্র এক মিনিটেই প্রথম গোল, এরপর ফ্রি-কিক থেকে দ্বিতীয়টি।কিন্তু পাভলোভিচ, হ্যারি কেইন, লুইস দিয়াজ ও মাইকেল ওলিসের গোল বায়ার্নকে ফিরিয়ে আনে ম্যাচে। রিয়াল আরও বিধ্বস্ত হয়, ৮৬ মিনিটে কামাভিঙ্গার লাল কার্ড দেখলে। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় বায়ার্ন।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার বিদায়ও কম নাটকীয় ছিল না। দ্বিতীয় লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে ২-১ গোলে জিতলেও লাভ হয়নি হান্সি ফ্লিকের দলের। প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় দিয়েগো সিমিওনের অ্যাটলেটিকো। এই নিয়ে তৃতীয়বার কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাটলেটিকোর কাছে থেমে গেল বার্সা। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৬ সালেও একই পরিণতি হয়েছিল।
গত এক দশকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যেন বার্সেলোনার জন্য এক গোলকধাঁধা। ২০১৫ সালে শেষবার ট্রফি জয়ের পর ১১ বারের মধ্যে ৬ বারই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে কাতালানদের। মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারদের সোনালি যুগ, ইনিয়েস্তা-জাভি-বুস্কেটসদের মাঝমাঠ—সবই এখন স্মৃতি। ইউরোপের মঞ্চে সেই দাপট আর দেখা যায় না। সব মিলিয়ে, চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যেন স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য এক বড় ধাক্কা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *