তাপপ্রবাহে মাইগ্রেন ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কেন বাড়ে? কী ব্যাখ্যা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের?
গরমের তীব্রতা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে বহু মানুষের মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, শরীরের ব্যথা-সহ স্নায়ুজনিত নানা সমস্যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে,এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। অতিরিক্ত তাপমাত্রা শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের উপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে আগে থেকে থাকা অসুস্থতা আরও বেড়ে যেতে পারে।
কেন গরমে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ে জানেন?
আমাদের মস্তিষ্ক শরীরের সামান্য পরিবর্তনেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে জল কমে গেলে স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। তখন মস্তিষ্কের স্নায়ু বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, ফলে মাইগ্রেনের ব্যথা সহজেই শুরু হতে পারে।আবার যাঁদের আগে থেকেই শরীরে ব্যথার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে গরম সেই ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এই সময় শরীরের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কমে যায়।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ?
কিছু মানুষ গরমের সময় বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। যাদের আগে থেকেই মাইগ্রেন আছে, শরীরে দীর্ঘদিনের ব্যথা রয়েছে কিংবা স্নায়ুর ব্যথা হয়- তাঁদের ক্ষেত্রে গরমের প্রভাব বেশি দেখা যায়। বয়স্ক মানুষদের শরীর সহজে তাপমাত্রা সামলাতে পারে না, তাই তাঁরাও বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। কিছু ওষুধ শরীরের জল কমিয়ে দেয় বা মস্তিষ্কে ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে, সেগুলো খেলেও সমস্যা বাড়তে পারে। এছাড়া যাঁরা অনেকক্ষণ রোদে কাজ করেন বা ঠান্ডা জায়গায় থাকার সুযোগ পান না, তাঁদেরও বেশি কষ্ট হতে পারে।
কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগে শরীর কিছু সতর্কবার্তা দেয়। অনেকেই প্রথমে ঘন ঘন মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মনোযোগে ঘাটতি বা পেশিতে টান অনুভব করেন। মাইগ্রেন রোগীদের ক্ষেত্রে চোখে ঝাপসা দেখা, আলোর ঝলকানি, বমিভাব, আলো বা শব্দে অতিরিক্ত অস্বস্তির মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। এই উপসর্গগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশ্রাম নেওয়া, জল পান করা এবং ঠান্ডা জায়গায় যাওয়া জরুরি।
কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় উপায়।
• তৃষ্ণা লাগার আগেই নিয়মিত জল পান করা
• প্রয়োজনে গ্লুকোজ জাতীয় পানীয় খাওয়া
• ঘর ঠান্ডা রাখুন—ফ্যান, এসি বা ঠান্ডা ভেজা কাপড় ব্যবহার করা
• সকাল বা সন্ধ্যার ঠান্ডা সময়ে বাইরে বেরানো
• হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা
• পর্যাপ্ত ঘুম
•সময়মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
•মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা
বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। আগে থেকে সতর্ক থাকলে মাইগ্রেন বা ব্যথার তীব্রতা কমানো সম্ভব হবে,সঙ্গে শরীর সতেজ থাকবে।
