বারাণসী ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন ?নিখুঁত ভ্রমণসূচীর জন্য রইল শিল্পা শেট্টির টিপস
বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির সাম্প্রতিক বারাণসী সফর এখন ভ্রমণ প্রেমীদের মধ্যে আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছে।তবে নায়িকার কাছে ভ্রমণ মানে শুধু পর্যটনকেন্দ্রই ঘুরে দেখা নয়,বরং সেখানে ইতিহাস,সংস্কৃতি,খাবার,স্থানীয় জীবনযাত্রা এবং অধ্যাত্বিকতাকেও উপভোগ করা। তাঁর বারাণসী সফরও এমনই এক অভিজ্ঞতা।যা অনেক ভ্রমণপিপাসুর কাছেই ‘পারফেক্ট ট্রাভেল গাইড’ হয়ে উঠেছে।
ভারতের প্রাচীনতম শহরগুলির মধ্যে অন্যতম বারাণসী। যা কাশী বা বেনারস নামেও পরিচিত।এই শহর শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়,বরং তাঁর শিল্প,সাহিত্য,খাদ্যাভাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।এককথায়,বেনারস ভালবাসার শহর। নিজের সফরের বিভিন্ন মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন অভিনেত্রী।কখনও স্থানীয় বিখ্যাত লস্যির স্বাদ নিয়েছেন, কখনও ঐতিহ্যবাহী বেনারসি শাড়ির বাজারে সময় কাটিয়েছেন, আবার কখনও মন্দিরে গিয়ে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া নিয়েছেন। প্রথমবার যাঁরা বেনারস যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য শিল্পার এই ট্রিপ হতে পারে নিখুঁত অনুপ্রেরণা।
আপনি যদি প্রথমবার বেনারস যান,তাহলে অবশ্যই করুন এই ৭ কাজ
কাশী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন
কাশী বিশ্বনাথ মন্দির বারাণসীর সবচেয়ে বিখ্যাত মন্দির এবং দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে অন্যতম।ভগবান শিবকে উৎসর্গ করা এই মন্দিরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত আসেন। কাশী বিশ্বনাথ দর্শন ছাড়া বারাণসী সফর অসম্পূর্ণ। তবে মন্দিরে যাওয়ার আগে সময়সূচি ও নিরাপত্তা নিয়ম জেনে নেওয়া ভাল।
অস্যি ঘাট থেকে সূর্যোদয়ের নৌবিহার
অস্যি ঘাট থেকে ভোরবেলার নৌকা ভ্রমণ বারাণসীর অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।সূর্য ওঠার সময় গঙ্গার উপর সোনালি আলো ,দূরে মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি , স্নানরত মানুষ, প্রার্থনার দৃশ্য ,ভোরবেলার আরতি সব মিলিয়ে এক অপার্থিব অনুভূতি তৈরি হয়। যাঁরা ফটোগ্রাফি ভালবাসেন ,তাঁদের এটি দারুণ সময়।
সন্ধেবেলা দশাশ্বমেধ ঘাটে গঙ্গা আরতি
দশাশ্বমেধ ঘাটের গঙ্গা আরতি এতটাই বিশ্ব বিখ্যাত যে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটন এই আরতি দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে।প্রতিদিন সকাল ও সন্ধের এই আরতি অনুষ্ঠিত হয়। বহু পুরোহিত একসঙ্গে প্রদীপ,ধূপ শঙ্খ ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে গঙ্গামাতার আরাধনা করেন।যদিও সন্ধের আরতি এই ঘাটে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
পুরনো শহরের সরু গলি ঘুরে দেখুন
বারাণসীর ঘাটের বাইরেই রয়েছে শহরের আসল প্রাণ।সরু গলি,পুরনো বাড়ি ,ছোট ছোট মন্দির ,মিষ্টির দোকান ,পানের ঠেলাগাড়ি ,কাপড়ের বাজার সবকিছুতেই রয়েছে ঐতিহ্যের ছাপ। এই গলিতে হাঁটলেই বোঝা যায় ,কেন বারাণসীকে জীবন্ত শহর বলা হয়।
বেনারসি শাড়ির টানে কেনাকাটা
প্রথমবার বারাণসী গেলে বেনারসি শাড়ির বাজার অবশ্যই ঘুরে দেখুন।ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের আকর্ষণ এড়িয়ে যেতে পারেনা কেউই।বেনারসি শাড়ি তাঁর সূক্ষ্ম জরি কাজ,সমৃদ্ধ নকশা এবং রাজকীয় সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজোড়া বিখ্যাত।যে কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে এই শাড়ির আলাদা মর্যাদা রয়েছে।তাই প্রথমবার বেনারস গেলে এই শাড়ির পিছনে থাকা ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।
স্ট্রিট ফুড আনন্দ করুন
বারাণসীর স্ট্রিট ফুড অত্যন্ত জনপ্রিয়।এখানে নিরামিষ খাবারে রয়েছে প্রচুর বৈচিত্র্য। অবশ্যই চেখে দেখতে পারেন কচুরি সবজি,চাট ,ব্লু লস্যি এবং সবচেয়ে বিখ্যাত বেনারসি পান। বেনারসের প্রতিটি খাবারেই রয়েছে স্থানীয় স্বাদ ও সংস্কৃতির ছোঁয়া।
আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়ায় সফরের সমাপ্তি
প্রথমবার বেনারস ঘুরতে গেলে শুধু শহরের মধ্যে নয় ,আশেপাশের ধর্মীয় স্থানগুলিও ঘুরে দেখতে পারেন। সফরের শেষ গন্তব্য করুন মা বিদ্যাবাসিনীর মন্দির।এটি ৫১ পীঠের অন্যতম শক্তিপীঠ বলে মানা হয়। বিশ্বাস,দেবী এখানে পূর্ণ রূপে বিরাজ করেন।শান্ত পরিবেশ,ভক্তির আবহ এবং বিশ্বাসের শক্তি মিলিয়ে এই সফর হয়ে উঠতে পারে আরও স্মরণীয়।
কেন বারাণসী এত বিশেষ ?
বারাণসী এমন এক শহর যেখানে ধর্ম, ইতিহাস, শিল্প, সঙ্গীত, স্বাদ এবং জীবনযাত্রা একসঙ্গে মিশে আছে। এখানে যেমন মন্দির আছে, তেমনই আছে ঘাটের জীবন, লোকসংস্কৃতি, বস্ত্রশিল্প এবং বিখ্যাত খাবার।আপনি যদি প্রথমবার বারাণসী যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে শুধু দর্শনীয় স্থান ঘুরে ফিরবেন না। শহরের খাবার খান, গলিতে হাঁটুন, নৌকায় চড়ুন, আরতির আবহ অনুভব করুন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। তবেই বুঝবেন কেন হাজার বছর ধরে এই শহর আজও অটুট।
