বিপ্লবদার সঙ্গে আমার তিন প্রজন্মের সম্পর্ক, মায়ের মৃত্যুতে উনি আমাকে আগলে রেখে শুটিং করতেন: চৈতি ঘোষাল
না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন প্রবীণ অভিনেতা তথা বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। দেড় বছর অটোইমিউন রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন প্রয়াত বাচিকশিল্পী। শুক্রবার দুপুরে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ একাধিক তারকা। তাঁর শেষযাত্রায় এসে স্মৃতিচারণ করলেন চৈতি ঘোষাল।
তিনি জানান,স্কুলজীবনের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়। চৈতির কথায়, “বিপ্লবদার সঙ্গে আমার সম্পর্ক তিন প্রজন্মের—উনি বাবার বন্ধু, আমার বন্ধু, আবার আমার ছেলেরও বন্ধু।”তিনি জানান, বিপ্লব দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর প্রথম কাজ ছিল ‘রজনী’ ধারাবাহিকে, যেখানে তিনি প্রযোজকের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় থেকেই কাছ থেকে তাঁর কাজের ধরণ, ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের প্রতি ব্যবহার দেখার সুযোগ হয়। চৈতি বলেন, লেক গার্ডেন্সে তাঁদের বাড়িতে তাঁর বাবার রিহার্সালে নিয়মিত আসতেন বিপ্লব দাশগুপ্ত, ফলে পারিবারিক সম্পর্কও ধীরে ধীরে আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।

চৈতি ঘোষালের কথায়, বিপ্লব দাশগুপ্ত ছিলেন এক চলমান জ্ঞানের ভাণ্ডার। বাংলা সিনেমা, থিয়েটার, সাহিত্য থেকে শুরু করে শিল্প-সংস্কৃতির নানা বিষয় নিয়ে তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল। বিশেষ করে পুরনো দিনের বহু শিল্পীর অজানা গল্প, অভিজ্ঞতা এবং স্মৃতি তিনি অনর্গল বলতে পারতেন। তিনি বলেন, “আমার বাবা সম্পর্কে গল্প, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে গল্প, উত্তম কুমার-এর অসংখ্য গল্প—সবই ওনার জানা ছিল। উনি ছিলেন একজন জ্ঞানের ভাণ্ডার।”
ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ে কীভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত, সেই স্মৃতিও ভাগ করে নেন চৈতি। তিনি জানান, ২০২১ সালে তাঁর সঙ্গে শুটিং করার সময়ই তিনি নিজের মা এবং এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে হারান। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে বিপ্লব দাশগুপ্ত তাঁকে মানসিকভাবে আগলে রেখেছিলেন। চৈতির কথায়, “আমি তখন খুব ভেঙে পড়েছিলাম। বিপ্লবদা আমাকে আগলে রেখে শুটিং করাতেন, বাস্তবতাকে চিনতে শেখাতেন।”
বিপ্লব দাশগুপ্তের ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এত শিক্ষা, এত জ্ঞান এবং এত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে কোনও অহংকার ছিল না। তিনি কখনও কাউকে ছোট করে কথা বলতেন না। বরং সকলকে সম্মান দিতেন এবং ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নিতেন। চৈতির ভাষায়, “এরকম ভদ্র মানুষ, শিক্ষিত মানুষ খুব কম দেখা যায়। পরিবেশকে উনি সুন্দর করে তুলতে পারতেন।”
আবেগঘন কণ্ঠে চৈতি ঘোষাল বলেন, “আজ আমরা শুধু বিপ্লবদার নশ্বর দেহকে বিদায় জানাচ্ছি না, বিদায় জানাচ্ছি এক শক্তিকে, এক জ্ঞানকে, এক কর্মময় জীবনকে।ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই তাঁকে বিডিজি বলে ডাকতেন।তিনি যতদিন ছিলেন রাজার মতো নিজের নিয়মে কাজ করছেন।”
