৪০০-তে ৪০০! সারা দেশে প্রথম পানিহাটির অনুষ্কা, আইসিএসই-আইএসসি ফলে উজ্জ্বল বাংলা
ভোটের উত্তাপ থিতিয়ে যেতেই প্রকাশিত হল আইসিএসই (দশম) ও আইএসসি (দ্বাদশ) পরীক্ষার ফলাফল। আর সেই ফলেই উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলার নাম। দুই পরীক্ষায় মিলিয়ে রাজ্য থেকে মোট ১৯ জন শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। আইএসসিতে ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে ৭ জন পরীক্ষার্থী, আইসিএসই-তে যৌথভাবে প্রথম হয়েছে ১২ জন। অগ্নিভ চক্রবর্তী ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়ে বিশেষ নজর কেড়েছেন।
তবে এবারের সেরা সাফল্য এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি থেকে। সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্রী অনুষ্কা ঘোষ আইএসসি পরীক্ষায় ৪০০-র মধ্যে ৪০০ নম্বর পেয়ে সারা দেশে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বাংলার মেয়ের এই নজিরবিহীন সাফল্যে রাজ্যজুড়ে খুশির হাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে আইসিএসই-তে পরীক্ষার্থী ছিল ৪৪,৪১০ জন এবং আইএসসি-তে ২৮,৭৯১ জন। পাশের হারও অত্যন্ত উজ্জ্বল। আইসিএসই-তে ৯৮.৮৪ শতাংশ এবং আইএসসি-তে ৯৮.৯০ শতাংশ। দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাশের হার বেশি। আইসিএসই-তে ছাত্রীদের পাশের হার ৯৯.২২ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের ৯৮.৫৩ শতাংশ। আইএসসি-তে ছাত্রীদের পাশের হার ৯৯.৩১ শতাংশ, ছাত্রদের ৯৮.৫৪ শতাংশ।
সারা দেশের ছবিটাও একই রকম আশাব্যঞ্জক। আইসিএসই-তে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.১৮ শতাংশ এবং আইএসসি-তে ৯৯.১৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এ বছর সাফল্যের হার আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে আইসিএসই-তে পাশের হার ছিল ৯৯.০৯ শতাংশ, সেখানে এ বছর তা বেড়ে ৯৯.১৮ শতাংশ হয়েছে। আইএসসি-তেও একই প্রবণতা, ৯৯.০২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৯.১৩ শতাংশ।
পরীক্ষার্থীর সংখ্যাতেও রয়েছে ব্যাপকতা। এ বছর আইসিএসই পরীক্ষায় বসেছিল ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭২১ জন, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ৫৯০ জন। আইএসসি-তে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লক্ষ ০২ হাজার ৪১৪ জন পড়ুয়া। জাতীয় স্তরের মতোই রাজ্যেও মেয়েরাই সাফল্যের শীর্ষে রয়েছে। রাজ্যে আইসিএসই-র জন্য ৪৫৭টি এবং আইএসসি-র জন্য ৩৪৮টি স্কুল অংশ নেয়। অন্যদিকে, সারা দেশে দশমের পরীক্ষা নেওয়া হয় ২,৯৫৭টি স্কুলে এবং দ্বাদশের ১,৫৫৩টি স্কুলে। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পড়ুয়াদের জন্য খোলা হয়েছে অনলাইন পোর্টাল। কাউন্সিলের সরকারি ওয়েবসাইট ও ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট পোর্টালের পাশাপাশি ‘ডিজি লকার’-এও দেখা যাচ্ছে রেজাল্ট। পুনর্মূল্যায়নের আবেদন আগামীকাল থেকে ৪ মে পর্যন্ত করা যাবে।
