‘কেউ একদিনে স্বরূপ হয় না’,গ্রেফতারের পর বিস্ফোরক শ্রীলেখা, সরব টলিউড
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই টলিপাড়ার অন্দরে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’- দের নিয়ে উঠেছে অজস্র অভিযোগ। তাঁর মধ্যে অন্যতম নাম ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস।এবার তাঁকে ঘিরেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।তোলাবাজি ও যৌন হেনস্থার মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাস।বৃহস্পতিবার নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেন।স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের খবর ছড়াতেই রাতের মধ্যেই নিউ আলিপুর থানার সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা।বহুদিনের অসন্তোষ ও ক্ষোভ যেন একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়।বিক্ষোভকারীদের মুখে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগানও।ঘটনাকে ঘিরে সরব হয়েছে টলিউডের একাংশ।অভিনেতা-অভিনেত্রী , কলাকুশলীদের অনেকেই স্বরূপের গ্রেফতারিকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন।
ইন্ডাস্ট্রির যে কোনও বিষয়েই অকপট অভিনেতা ঋদ্ধি সেন।তিনি বলেন,”দু বছর আগে অবধি ওনার মুখের আদল কেমন জানতাম না,প্রয়োজন বোধ করিনি জানার,শুধু জানতাম যে সুরুচি সংঘের কার্তিকের গোঁফ অনুকরণ করে নাকের নীচে এক জোড়া গাম্ভীর্য লালন করার কাজ যত্ন নিয়ে করতেন তিনি,আর ঠিক যখন ব্যস্ত সবাই এদিক ওদিক করছে ঘোরাঘুরি,বাবু হাঁকেন,ওরে আমার গোঁফ গিয়েছে চুরি !” ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’- এর পরিচালক জয়ব্রত দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন,”আমাদের ছবির যখন রিলিজ আটকে দেওয়া হয়েছিল তখন বেশ কিছু পরিচালক বাংলা ছবি বানানোর নিয়ম নামক একটি চোথা নামিয়েছিলেন ফেসবুকে।আজ এই শুভদিনে ওই চোথাটি অ্যাকচুয়ালি কে লিখেছিলেন জানতে একটু মন চায় !”এছাড়াও পরিচালক লেখেন,”ওনার থেকে বাংলা সিনেমা বানানোর নিয়ম গুলো আর শেখা হলো না!আপসোসটা রয়ে যাবে অনেকদিন।”
এদিকে অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী লেখেন,”এই সেই ল্যাম্পপোস্ট, যে ওই পাহাড়ের থেকে নিজেকে বেশি লম্বা ভাবে।” বাদ পড়েননি অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও।তিনি লেখেন,”কেউ একদিনে স্বরূপ হয় না।সিস্টেম তাকে সেটা বানায়।সেদিনটাকে ভুলিনি—যেদিন স্বরুপ বিশ্বাস কে নিয়ে মাত্র একটি লাইন বলার অপরাধে এই মানুষগুলো আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।আজ জানতে ইচ্ছে করছে,এই বিশ্বাসের গ্রেফতারের খবরে তারা কি মর্মাহত, নাকি আনন্দিত?”এদিকে অভিনেতা মৈনাক বন্দোপাধ্যায় বিদ্রুপ করে লেখেন,”খোকাকে বলে দে এটা বিশ্বাস করতে।”
উল্লেখ্য,ঘটনার সূত্রপাত টালিগঞ্জের এক মহিলা সজ্জা শিল্পীর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই।অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কাজ পাচ্ছিলেন না সেই শিল্পী। কাজের জন্য আবেদন করলে তাঁর থেকে টাকা দাবি করা হয় এবং ভয় দেখানো হয়।এছাড়াও যৌন হেনস্থার অভিযোগও তোলা হয়।এদিন টেকনিশিয়ান স্টুডিও একাধিক কলাকুশলীরাও অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধে।অভিযোগকারীদের দাবি,দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডে প্রভাব খাটিয়ে কার্যসিদ্ধি এবং তোলাবাজির পরিবেশ তৈরি করেছিলেন তিনি।রাজনৈতিক আনুগত্য না থাকলে অনেক যোগ্য শিল্পীও কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ।ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করেছে।অভিযোগের প্রকৃতির ভিত্তিতে যৌন হেনস্থা, ভয় দেখানো, তোলাবাজি, অপরাধে সহযোগিতা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছে।পাশাপাশি তদন্তে অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসায় অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ ধারার মামলাও যুক্ত করা হয়েছে।
