রুদ্রর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারির সময় আমি পাশে দাঁড়াইনি ঠিকই…তবে নাড়ির যোগাযোগ থেকে যায়:পরম
দীর্ঘ ২৫ বছরের বন্ধুত্বে টলিউডে রুদ্রনীল ঘোষ ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে চর্চা নতুন নয়। ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই দুই অভিনেতার রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন কারণে তৈরি হওয়া দূরত্ব বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে।ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে তাঁদের সম্পর্ককে অনেকেই ‘আড়ি-ভাব’ বলেই বর্ণনা করেন।তবে বর্তমানে নিজের পরিচালনায় নতুন ছবি ‘আবার হাওয়া বদল’-এর মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন পরমব্রত।ছবিটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ,রাইমা সেন ও অনুষা বিশ্বনাথন। ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় ছবি ‘হাওয়া বদল’-এর প্রায় এক যুগ পর আসছে এই ছবির সিক্যুয়েল।ছবিতে পরমব্রত ও ইন্ডাস্ট্রির রুডি-র মধ্যেকার সম্পর্ক কেড়েছিল দর্শকের মন।তবে এবার ছবির প্রচারের মাঝেই রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে খোলামেলা জবাব দেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
আডিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া সাক্ষাৎকারে পরমব্রত জানান,তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে এবং সেই মতপার্থক্য দুই পক্ষকেই অনেক ক্ষেত্রে কষ্ট দিয়েছে।তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন,ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতভেদের কারণে পেশাগত সম্পর্ককে কখনও প্রভাবিত হতে দেননি।তাঁর কথায়, “আমি মনক্ষুণ্ণ হয়েছি ওর মতবদলে,রুদ্রনীলও হয়েছে আমার কিছু মতামতে।কিন্তু সেক্ষেত্রে পেশাগত সৌজন্যের কোনও অভাব হয়নি।”তিনি জানান,বিভিন্ন সময়ে একে অপরের মতামতের বিরোধিতা করলেও তাঁদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গা এখনও অটুট রয়েছে।
পরমব্রত বলেন,”রুদ্রকে আমি বাংলা সিনেমার সেরা তিনজন অভিনেতার মধ্যে একজন মনে করি।কোথাও যদি আমার ছবিতে রুদ্রকে অভিনয় করতে হয়,আমি একবারের জন্যও ভাবব না যে আমাদের মধ্যে কোনও মতবিরোধ আছে কিনা।”দুই অভিনেতার সম্পর্ক যে শুধুমাত্র সহকর্মীর সীমায় আবদ্ধ নয়,বরং বহু বছরের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে,তাও তুলে ধরেন পরমব্রত।তিনি বলেন,”আমাদের ২৫ বছরের পরিচয়।কোথাও গিয়ে একটা নাড়ির যোগাযোগ থেকে যায়,সাত জন্মের পরিচয়ের মতো।আমাদের মধ্যে যতই মনোমালিন্য বা মতবিরোধ থাকুক না কেন,সেই সম্পর্ক মুছে যায় না।”
এদিন ইন্ডাস্ট্রিতে রুদ্রনীল ঘোষকে ঘিরে তথাকথিত ‘বয়কট’-এর অভিযোগ ও কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন পরমব্রত।তাঁর দাবি,নানা বাধা-বিপত্তি ও সমালোচনার মধ্যেও তিনি কাজ থামিয়ে রাখেননি।বদলে গত পাঁচ বছরে নিজের প্রযোজনায় ‘সাবাস ফেলুদা’, ‘আবার হাওয়া বদল’ একের পর এক ছবিতে নিজের বন্ধুকেই জায়গা দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, সম্প্রতি টলিউডে শিল্পীদের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং বিভিন্ন বিতর্ককে কেন্দ্র করে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন পরমব্রত।তিনি জানান,গত কয়েক মাসে রুদ্রনীলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের সময় তিনি প্রকাশ্যে পাশে দাঁড়াতে পারেননি,যার জন্য তাঁর আক্ষেপ রয়েছে।পরমব্রত বলেন,”গত সাত-আট মাস আমি রুদ্রর পাশে দাঁড়াতে পারিনি।’অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’- এর সময় যখন রুদ্রর কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং ২০২৫ সালের শেষ দিকে যখন কার্যত ওর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা হয়েছিল, তখন আমি দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রণক্লান্ত অবস্থায় নিজের কাজ আবার শুরু করেছি।তাই সেই সময় তাঁকে সাহায্য করে উঠতে পারেনি।”তিনি আরও জানান,সেই সময় ব্যক্তিগত ও পেশাগত নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছিল তাঁকে।তাই ইচ্ছা থাকলেও সক্রিয়ভাবে কোনও অবস্থান নিতে পারেননি।তাঁর কথায়,”সেই সময় আমি নিজের পাওনাদারদের ধার শোধ করেছি,কাজ করেছি। তাই পাশে দাঁড়াতে পারিনি।এক্ষেত্রে রাজনীতিটা কোনও ব্যাপারই নয়।”
