নেইমারের চোখে জল, ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে উড়ল ব্রাজিল
প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। চোট, রিহ্যাব আর অনিশ্চয়তার কঠিন পথ পেরিয়ে আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন নেইমার। আর সেই প্রত্যাবর্তনের রাতেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুরন্ত পারফরম্যান্সে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করল ব্রাজিল।
মায়ামি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সেলেকাওরা। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই স্কটিশ রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোলের খাতা খোলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারেসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি জাইরজিনিও, রোমারিও, রোনাল্ডো নাজারিও ও রিভাল্ডোর পাশে। চলতি আসরে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার।
দ্বিতীয়ার্ধে মাথিয়াস কুনিয়ার গোলে ব্যবধান ৩-০ হয়। এরপরই আসে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলের হয়ে এটাই তাঁর প্রথম ম্যাচ। গ্যালারি জুড়ে তখন শুধু একটাই ধ্বনি—‘নেইমার, নেইমার’।

সময়ের হিসাবে মাঠে বেশি কিছু করার সুযোগ পাননি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবু ম্যাচ শেষে তিনিই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শেষ বাঁশি বাজতেই আবেগ সামলাতে পারেননি নেইমার। চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে। পরে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে দেখা হলে সেই আবেগঘন মুহূর্ত আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।
ম্যাচের পর নেইমার বলেন, ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপানো তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিশেষ অনুভূতিগুলোর একটি। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। ড্রেসিংরুমে ফিরে একা বসেও কেঁদেছেন বলে জানান এই তারকা ফুটবলার।

একদিকে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে ভিনিসিয়ুসের গোলঝড়—দুইয়ে মিলে ব্রাজিল যেন ফিরে পেয়েছে নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে উঠেছে সেলেকাওরা। আর ভিনিসিয়ুসের ধারাবাহিক গোল আর নেইমারের প্রত্যাবর্তন নতুন করে বিশ্বকাপ স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
