একটা সময় খাওয়ার পয়সা ছিল না,আজ মরে গেলেও আক্ষেপ থাকবে না: যিশু
পর্দায় তাঁর হাসি,আত্মবিশ্বাস আর সাফল্যের গল্পই বেশি চোখে পড়ে।কিন্তু সেই সফলতার পিছনে লুকিয়ে থাকা পথচলাটা ছিল একেবারেই অন্যরকম।জীবনের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনিশ্চয়তা,অপূর্ণ স্বপ্ন এবং পেশাগত ওঠাপড়ার মুখোমুখি হলেও কখনও নিজেকে ‘সংগ্রামী’ বলতে চাননি অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত।বরং তাঁর বিশ্বাস,জীবনে যা কিছু করেছেন,সবটাই করেছেন আনন্দ এবং ভালোবাসা নিয়ে।সম্প্রতি,নিজের ছবি ‘অভিমান’-এর প্রচারের এসে নিজের কেরিয়ার এবং সফলতা নিয়ে অকপট কথা বললেন অভিনেতা।
ছোটবেলায় অভিনেতা হওয়ার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না তাঁর।ক্রিকেট খেলাই ছিল প্রথম ভালোবাসা,পাশাপাশি ড্রাম বাজাতেও ভীষণ আগ্রহ ছিল।পকেট খরচের টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজাতেন তিনি।সেই সময়ের কথা স্মরণ করে যিশু বলেন,“আমি যে সময় ক্রিকেট খেলতাম,তখন অনেক সময় খাওয়ার পয়সাও ছিল না।কোথাও কাজ করে ২০০ টাকা পেতাম,আর সেটাই আমার কাছে ভীষণ আনন্দের বিষয় ছিল।ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছিলাম,সেটা নিয়ে একটা দুঃখ অবশ্য ছিল।”তবে এত বছরের কেরিয়ারের দিকে ফিরে তাকিয়ে যিশু স্পষ্ট জানিয়েছেন,তিনি নিজের পথচলাকে কখনও স্ট্রাগল হিসেবে দেখেন না।তাঁর কথায়,“আমি কোনওদিন স্ট্রাগল কী সেটা বুঝতেই পারিনি।গত ১৫-২০ বছর ধরে আমি ভীষণ আনন্দ করে কাজ করেছি।যা করেছি,ভালোবেসেই করেছি।তাই আমি বলব না যে আমি প্রচুর খেটেছি বা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করেছি।কাজটা আমি উপভোগ করেছি বলেই সেটা আমার কাছে সংগ্রাম নয়।”
কেরিয়ারের এমন সময়ও এসেছে,যখন বড় বাজেটের ছবি, নামী পরিচালক বা প্রথম সারির নায়িকাদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাননি।কিন্তু সেই সময়েও কাজ থামিয়ে রাখেননি তিনি। যিশু বলেন,“যখন বড় ছবি করতে পারিনি,তখন ছোট ছবি করেছি।অন্য নায়কের না বলে দেওয়া ছবিও করেছি।কিন্তু কাজ করে গিয়েছি।সেই সময়টা নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই।”বর্তমানে নিজের অবস্থান নিয়ে সম্পূর্ণ তৃপ্ত অভিনেতা।জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব কষতে গিয়ে কৃতজ্ঞতার সুরে তিনি বলেন,“ভগবান,মা-বাবার আশীর্বাদ আর মানুষের ভালোবাসায় আজ আমি যা পেয়েছি,সবটাই অর্জন করেছি।তাই আজ যদি আমি মরেও যাই,আমার কোনও আক্ষেপ থাকবে না।”
উল্লেখ্য,১৯৯৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁর জীবনে আসে বড় মোড়।জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘মহাপ্রভু’-তে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।আর সেখান থেকেই শুরু হয় অভিনয়জগতের দীর্ঘ সফর। পরবর্তীকালে বড় পর্দায় পা রেখে ধীরে ধীরে অভিনয় জগতে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন যিশু সেনগুপ্ত।বাংলা ছবিতে সাফল্যের পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রেও একের পর এক উল্লেখযোগ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি।‘বরফি’,‘পিকু’,‘মরদানি’-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়।
