‘আর কত নিরীহ নারীকে বর্বরতার শিকার হতে হবে?’,বারুইপুর ধর্ষণকান্ডে বিস্ফোরক শুভশ্রী
বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। ঘটনাটির পর থেকেই বিদ্যুতের গতিতে পদক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।মঙ্গলবার নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদেরকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা করেন মুখ্যমন্ত্রী।নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সায়নী ঘোষও।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মুখ খুললেন রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কের স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। সমাজে একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিনেত্রী।
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্ট ভাগ করেন শুভশ্রী। তিনি লেখেন, ” শিশু থেকে বৃদ্ধা- কোনও বয়সই আজ আর নিরাপদ নয়।এই বিকৃত মানসিকতার মানুষগুলো থামছে না,আর থামবেও না।যতদিন তাঁরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।শাস্তির অভাবেই তাঁদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে বারবার এমন নৃশংস অপরাধ করার সাহস জোগাচ্ছে।” তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে প্রতিবাদ নেমেছে রাস্তায়, তবুও কোনও বদল নেই।প্রতিদিন কোথাও না কোথাও পরিচিত কিংবা অচেনা কোনও নারী ধর্ষনের শিকার হচ্ছে বলেই দাবি অভিনেত্রীর।

তিনি লেখেন, “বারুইপুরের ঘটনা আমাদের আবার মনে করিয়ে দিল, আমরা এখনও কতটা অসহায়।প্রশ্ন একটাই – এর শেষ কোথায় ? আর কত নিরীহ নারীকে এই বর্বরতার শিকার হতে হবে ? আর কত পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে? এই প্রশ্নগুলো এখন শুধু ক্ষোভ নয়, গভীর যন্ত্রণা হয়ে মনে জমে আছে।এমন একটি সমাজের অপেক্ষায় আছি , যেখানে অপরাধীরা ভয় পাবে, আর নারীরা ভয় মুক্ত হবে।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধেবেলা বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন ১২ বছরের নাবালিকা। আর ফেরা হয়নি ঘরে।শনিবার খোঁজার পর রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়।সূত্রের খবর, নাবালিকাকে ধর্ষণ করে বস্তায় ঢুকিয়ে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। গোটা ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষ উত্তাল হয়ে স্থানীয় এলাকা সহ রেলস্টেশনে টায়ার জ্বালিয়ে আন্দোলন করেন।তবে ইতিমধ্যেই পুলিশের তদন্তে ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়।ঘটনাটির তদন্তের জেরে এসপি পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ৬ জনকে নিয়ে একটি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। সকল অভিযুক্তদের উপর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে ২ জনকে সোমবার আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
