মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে মনের যোগাযোগটা সবসময়ই থাকবে, ১০ জন শিল্পী প্রচার মঞ্চে এলে তার প্রভাব ভোটে পড়বেই: রূপাঞ্জনা
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র।একসময় বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে ২০২৫ সালে তাঁকে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে।সম্প্রতি সৌরভ পালোধি পরিচালিত ‘অনেকদিন পর’ ছবির প্রিমিয়ারে এসে শিল্পীদের রাজনীতি, টলিউডের ‘ব্যান কালচার’,বাকস্বাধীনতা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী।
ছবির প্রিমিয়ারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রসঙ্গে রূপাঞ্জনার বক্তব্য,”আমরা সবাই রাজনৈতিক প্রাণী।রাজনৈতিক মতাদর্শ ছাড়া কেউ থাকে না।আজকে যে দেশের মধ্যে আমরা বসবাস করছি সেখানে প্রত্যেকেই রাজনৈতিকভাবে সচেতন।আমার মনে হয় যা হচ্ছে তা ভালর জন্যই হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও যা হবে ভালর জন্যই হবে।যারা নিজেদের সিস্টেমের ভিতরে থেকে লড়াই করতে চায় ,যেরকম আমাদের একটা সংগঠন আছে যেটার জন্য আমাদের সরব হতে হয় যে জায়গাগুলিতে আমাদের অসুবিধা থেকে গিয়েছে বহু বছর ধরেও।”
নিজের রাজনৈতিক সফরের কথা বলতে গিয়ে রূপাঞ্জনা স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৯ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।অভিনেত্রীর কথায়, “আমি ২০১৯ সালে বিজেপি জয়েন করেছিলাম।তখন দল এভাবে কাজ করেনি।করলে ২০২১ এই ক্ষমতায় আসতে পারত।যে সরকার বর্তমানে এখন শাসনক্ষমতায় আছেন তাঁদের সঙ্গে আমি যুক্ত হয়েছিলাম ২০১৯ এ দিল্লিতে গিয়ে।তাও একটি বিশেষ কারণে বিশেষ কারণে।যারা বিরোধী রাজনীতি করে তাদেরকে সেই খেসারত টা দিয়ে যেতেই হয়।শিল্পী হিসেবে আমি রাজনীতি থেকে অবকাশও নিলেও সেক্ষেত্রে আমি যদি মানুষের উপকার করতে চাই আমার মনে হয় না কোনও রাজনৈতিক ট্যাগের প্রয়োজন আছে।যাঁরা আপনাকে দেখেছে,যাঁরা আপনার কাজ দেখেছে তাঁর মাধ্যমেও আমার মনে হয় সেই কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।সবটা সময়ের হাতে।”তাঁর বক্তব্য,”২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় যেটা বুঝতে পেরেছি কর্মীরাই আসল।আর সেলিব্রিটিদের রাজনীতি নিয়ে যদি বলি সেটা তো আজকের ব্যাপার নয় ,কমল হাসানও এসেছে ,একটা সময় অমিতাভ বচ্চন এসেছিলেন জয়া বচ্চনও ছিলেন,এছাড়াও বহু মানুষ এসছে। রাজীনীতির মধ্যে পিছুটান টাও জড়িত। সবকিছু একসঙ্গে করা যায়না।রাজনীতি করলে শুধু রাজনীতি করতে হয় কারণ এটা সমাজ সেবার কাজ তো ওটার জন্য একটা মনের দরকার হয়।এবং যাঁরা দুটোর ভারসাম্য রেখে চলতে পারে সেটা তাঁদের ব্যাপার।এক্ষেত্রে আমার কিছু বলার নেই।”
২০১৫ সালে তৃণমূল গঠন হলেও তাঁর বহু আগে থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কর্মজীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন অভিনেত্রী।এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথায় তিনি বলেন,”মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আজকে থেকে নয় ২০০৭ থেকেই একটা আত্মতা রয়েছে।আজকে যে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গিয়েছেন তারপর ওনার সঙ্গে একটা মনের যোগাযোগ থেকেই যাবে।তার কারণ শুধুই মমতা বন্দোপাধ্যায়।।১৫ বছর ধরে তিনি তো শাসন ক্ষমতায় ছিলেন তাই তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আর নতুন করে কিছু বলার নেই।কিন্তু কোথাও গিয়ে একটা ভুল ধারণা ছড়িয়েছে যে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে যাওয়া মানেই তৃণমূল দলের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত সেটা ভুল। দলের সঙ্গে যুক্ত হতে গেলে সেটা সেই দলের নিজস্ব পার্টি অফিসে গিয়েই যুক্ত হতে হয়,যেটা আমার কোনওদিন করা হয়ে ওঠেনি।”শিল্পীদের দলবদল প্রসঙ্গেও তিনি বলেন,”মানুষ শিল্পীদের দলবদলু বা গিরগিটি বলতেই পারে,কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলিও প্রচারের সময় জনপ্রিয় মুখের প্রয়োজন অনুভব করে।১০ জন পরিচিত শিল্পী যদি কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে এসে দাঁড়ান,তার প্রভাব ভোটে পড়বেই।”
এদিন টলিউডের বহুচর্চিত ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও মুখ খোলেন রূপাঞ্জনা।তাঁর দাবি,২০১৪-১৫ সাল থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।“ব্যান কালচারটা নিয়ে বহুদিন ধরেই আমরা বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। এখন সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে।”বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী রূপাঞ্জনা।তাঁর মতে,নতুন প্রযোজকদের আগমন, ভাল কনটেন্ট নির্মাণ এবং উন্নত ফিল্ম শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হলে ইন্ডাস্ট্রি আরও শক্তিশালী হবে।তিনি বলেন,”শিল্পীদের যদি বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়,তাঁদের প্রতিবাদ করতে না দেওয়া হয় হয় সেখানেই তাহলে গণতন্ত্রের শেষ।”
