টানা হারে তলানিতে কেকেআর, ‘লাস্ট বয়’ নাইটদের এখনও জয় অধরা, জিতল চেন্নাই

0



চলতি আইপিএল ২০২৬-এ যেন হারই নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের। টানা হারে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে নেমে গিয়ে ‘লাস্ট বয়’-এর তকমা জুটেছে নাইটদের কপালে। এখনও পর্যন্ত একটাও ম্যাচ জিততে না পারা এই দলকে ঘিরে হতাশ কেকেআরের ভক্তরা।
চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম-এ চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ৩২ রানের হার যেন কেকেআরের দুর্দশার প্রতিচ্ছবি। ম্যাচের শুরু থেকেই বোলিংয়ে ছন্দহীনতা, বিশেষ করে পাওয়ার-প্লেতে লাগামছাড়া রান খরচ, দলকে কার্যত ম্যাচের বাইরে ঠেলে দেয়। প্রতিপক্ষ সহজেই বড় স্কোর গড়ে, আর সেখান থেকেই চাপে পড়ে যায় নাইটরা।
তবে আসল হতাশা ব্যাটিংয়ে। ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোথাও আগ্রাসন, কোথাও পরিকল্পনা— কিছুই চোখে পড়েনি। ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার, কেউই দায়িত্ব নিতে পারেননি। অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের মন্থর ইনিংস আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দলের মানসিকতা ও ম্যাচ অ্যাপ্রোচ নিয়ে। টি-টোয়েন্টির দ্রুত গতির ক্রিকেটে এমন ধীর ব্যাটিং কার্যত আত্মসমর্পণেরই সামিল।


সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিং, বড় অঙ্কের চুক্তিতে দলে আসা ক্যামেরন গ্রিন— প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও পূরণ করতে পারেননি। একের পর এক ব্যর্থতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এই দল শুধু ফর্মেই নয়, আত্মবিশ্বাসেও তলানিতে।
বোলিং বিভাগেও একই ছবি। কিছুটা লড়াই দেখা গেলেও ধারাবাহিকতা নেই। পাওয়ার-প্লেতে নিয়ন্ত্রণহীন বোলিং ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দিচ্ছে বারবার। পরিকল্পনার অভাব ও ফিল্ড সেটিং নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সব মিলিয়ে, ব্যাটিং-বোলিং-নেতৃত্ব কোনও বিভাগেই আইপিএল মানের পারফরম্যান্স দেখাতে পারছে না কেকেআর। টানা হারে ভেঙে পড়া এই দল এখন দিশাহীন।


প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯২ রান তোলে চেন্নাই। পাওয়ার-প্লেতেই দ্রুত রান তুলে ম্যাচের ভিত গড়ে দেয় তারা। সঞ্জু স্যামসন ৪৮, ব্রেভিস ৪১, আয়ুষ মাত্রে ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। মাঝের ওভারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরালেও শুরুতে বেশি রান দিয়ে চাপে পড়ে যায় কেকেআর বোলাররা। ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় কেকেআর। ওপেনার ফিন অ্যালেন ১ রানে আউট হন। সুনীল নারিন ২৪ ও অজিঙ্কা রাহানে ২৮ রান করলেও রানের গতি ছিল মন্থর। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় নাইটরা। শেষদিকে রভম্যান পাওয়েল ও রমনদীপ সিং লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও ২০ ওভারে ১৬০ রানেই থেমে যায় ইনিংস।
এখন প্রশ্ন একটাই— এই অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানোর রাস্তা কোথায়? দ্রুত পরিবর্তন না আনতে পারলে, প্লে-অফ তো দূরের কথা, মরসুমটা দুঃস্বপ্ন হিসেবেই থেকে যাবে নাইটদের জন্য।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *