১৯ এপ্রিল মহাকাশে উড়েছিল ভারতের প্রথম স্বপ্ন,৫১ বছরের সেই ইতিহাস এখনও উজ্জ্বল
ভারতের বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে ১৯ এপ্রিল একটি স্মরণীয় দিন। আজ থেকে ঠিক ৫১ বছর আগে এই দিনেই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছিল দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ।যার নাম রাখা হয় ‘আর্যভট্ট’। এই মাইলফলক সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্ব মহাকাশ মানচিত্রে পাকাপাকি ভাবে নিজের জায়গা তৈরি করেছিল ভারত।
মহান ভারতীয় গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্টের নাম অনুসারে ১৯৭৫ সালে তৈরি হওয়া উপগ্রহটির নাম রাখা হয় ‘আর্যভট্ট।মূলত জ্ঞান,বিজ্ঞান এবং ঐতিহ্যের প্রতীক হিসাবেই বেছে নেওয়া হয়েছিল এই নামটি।স্বাধীনতার পর দেশ নতুন করে উন্নয়নের পথ খুঁজছিল,তখন ড.বিক্রম সারাভাইয়ের নেতৃত্বে শুরু হয় ভারতের মহাকাশ যাত্রা।তাঁর উদ্দেশ্যে ভারতে প্রথম মহাকাশ কর্মসূচির ভিত তৈরি হয়। পরে যদিও ইসরোর বহু বিজ্ঞনীরা তাঁর সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেয়।কিন্তু এই সময় প্রস্তুত ছিল না ভারতের নিজস্ব উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি।তাই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।তাঁদের ‘কপুস্তিন ইয়ার’ নামক উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে মহাকাশে পাঠানো হয় এই উপগ্রহটি।তাঁদের সহযোগিতা ও ভারতীয় বিজ্ঞানীদের দক্ষতার মিলিত প্রচেষ্টাতেই সফল হয় ঐতিহাসিক অভিযান।
প্রায় ৩৬০ কিলোগ্রাম ওজনের এবং ১.৪ মিটার ব্যসের এই উপগ্রহটি ছিল ২৬ প্যানেল বিশিষ্ট অভিনব বহুভুজ আকৃতির।বেঙ্গালুরুর পিনিয়া অঞ্চলের মধ্যে উপগ্রহটি তৈরি করা হয়েছিল।মিশনটির লক্ষ্য ছিল এক্স-রে জ্যোতির্বিজ্ঞান ,সৌর পদার্থবিদ্যা এবং বায়ুমণ্ডলীয় গবেষণা সংক্রান্ত পরীক্ষা চালানো।পাশাপাশি,ভারতীয় বিজ্ঞানীদের উপগ্রহ পরিচালনা ও মহাকাশ প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে,তা হাতে-কলমে শেখার সুযোগ করে দেয় এই অভিযান।কিন্তু উৎক্ষেপণের কয়েকদিন পরেই বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উপগ্রহটি তথ্য পাঠানো বন্ধ করে দেয়। তবুও এই অভিযান ব্যর্থ নয়,বরং ১৯ এপ্রিলের এই দিনটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবেই স্মরণীয়।
বহু বছরের নিরলস পরিশ্রম ও গবেষণার ফল ছিল ‘আর্যভট্ট’।পরবর্তীকালে ইসরোতে রোহিনী,চন্দ্রযান ,মঙ্গলযান-এর মতো একের পর এক সাফল্যের ভিত গড়ে দেয় এই আর্যভট্ট মিশন।
