১ মঞ্চে ২ প্রজন্মের তারকা গিল ও দ্রাবিড়, বর্ষসেরা তরুণ অধিনায়ক, আজীবন সম্মান ‘দ্য ওয়াল’-এর
ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান ও অতীত- দুই প্রজন্মের দুই তারকা একই মঞ্চে সম্মানিত হতে চলেছেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ‘নামান অ্যাওয়ার্ডস’-এ একদিকে বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মান পাচ্ছেন ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক শুভমন গিল, অন্যদিকে আজীবন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ সিকে নাইডু লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন প্রাক্তন অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। আগামী ১৫ মার্চ দিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে এই সম্মান তুলে দেবে বিসিসিআই।
টি২০ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা না পেলেও গত বছরের পারফরম্যান্সের জন্য বোর্ডের বিশেষ স্বীকৃতি পাচ্ছেন গিল। ২০২৫ সালে টেস্ট ও ওয়ানডে-দুই ফরম্যাটেই ধারাবাহিক ব্যাটিং করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। গত বছর টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৯৮৩ রান। বিশেষ করে ইংল্যান্ড সফরে তিনি ৭০-এর বেশি গড়ে ৭৫৪ রান করে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা নেন।

শুধু টেস্ট নয়, ওয়ানডে ক্রিকেটেও কার্যকর ছিলেন গিল। ২০২৫ সালে তিনি ৫০ ওভারের ফরম্যাটে মোট ৪৯০ রান করেন। এর মধ্যে ১৮৮ রান আসে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায়, যেখানে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সব মিলিয়ে গত বছর তিন ফরম্যাটে তাঁর মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৬৪ রান-যার মধ্যে রয়েছে সাতটি শতরান ও তিনটি অর্ধশতরান। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্যই তাঁকে ‘ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অবদান ও প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মান পাচ্ছেন দ্রাবিড়। ‘দ্য ওয়াল’ নামে পরিচিত এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের অন্যতম ভরসার প্রতীক ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর সংগ্রহ ১৩,২৮৮ রান এবং একদিনের ক্রিকেটে ১০,৮৮৯ রান। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি ভারতের বিখ্যাত ‘বিগ ফোর’-এর সদস্য ছিলেন-যেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন শচীন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ভিভিএস লক্ষ্ণণ। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও ভারতীয় ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দ্রাবিড়। তিনি ন্যাশনাল ক্রিকেট আকাদেমির প্রধান, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ এবং পরে সিনিয়র পুরুষ দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কোচিংয়ের সময়েই ভারত জেতে ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সীমিত ওভারের ঘরোয়া ক্রিকেটে সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে আয়ুষ মাত্রে পাচ্ছেন লালা অমরনাথ অ্যাওয়ার্ড। সূত্রের খবর, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মিতালি রাজকেও আজীবন সম্মানে ভূষিত করার কথা ভাবছে বোর্ড। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে সেরা সংস্থা হিসেবে সম্মান পেতে পারে মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন।
সব মিলিয়ে, একদিকে বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল মুখ গিল, অন্যদিকে অতীতের নির্ভরতার প্রতীক দ্রাবিড়—এই দুই প্রজন্মের দুই তারকাকে সম্মান জানিয়ে এবারের নামান অ্যাওয়ার্ডস ভারতীয় ক্রিকেটের ধারাবাহিক ঐতিহ্যকেই তুলে ধরবে বিসিসিআই।
