প্রথম বলেই জীবনদান! এরপর তাণ্ডব চেজমাস্টার কোহলির! রেকর্ড ভাঙা রাতে আরসিবির জয়
চিন্নাস্বামীর আলোয় আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে ‘চেজমাস্টার’ বলা হয়। বিরাট কোহলি যেন ভাগ্যকেও নিজের পক্ষে টেনে নিতে জানেন। ইনিংসের প্রথম বলেই ওয়াশিংটন সুন্দরের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েও বেঁচে যান তিনি। আর সেই একটামাত্র সুযোগই শেষমেশ কাল হয়ে দাঁড়ায় গুজরাট টাইটান্সের জন্য।
২০৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোহলির ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসে ৪৪ বলে অপরাজিত ৮১ রানের এক রাজকীয় ইনিংস। ধ্রুপদী শট আর আগ্রাসনের মিশেলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসেই ৭ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন দেবদত্ত পাড়িক্কল, যিনি মাত্র ২৭ বলে ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন।
তবে শুধু ম্যাচ জেতানোই নয়, এই রাতটা কোহলির রেকর্ডবুকেও সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। আইপিএল ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একটি নির্দিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ৮০০টি চার ও ৩০০টি ছক্কার নজির গড়লেন তিনি। পাশাপাশি আইপিএলে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৮০০ বাউন্ডারির মালিকও এখন কোহলি। ৮০০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে ৯০০০ রানের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই কিংবদন্তির আগ্রাসন আর রানের খিদে আজও যেন সমান।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে গুজরাট টাইটান্সকে বড় রান এনে দেন সাই সুদর্শন। মাত্র ৫৮ বলে ১০০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে দলকে ২০০ পার করে দেন তিনি। সুদর্শনের ইনিংস সাজানো ছিল ১১ চার ও ৫ ছক্কায়। এই ইনিংসের মধ্যেই ৪৭তম ম্যাচে ২০০০ আইপিএল রান পূর্ণ করে ভেঙে দেন ক্রিস গেইলের রেকর্ড। অধিনায়ক শুভমন গিল করেন ২৪ বলে ৩২ রান। বাটলার ১৬ বলে ২৫। সব নিয়ে গুজরাট তোলে ৩ উইকেটে ২০৫ রান।
কিন্তু শেষ হাসি হাসলেন কোহলিই। সুদর্শনের শতরান ম্লান হয়ে গেল তাঁর ব্যাটের ঝলকে। ঘরের মাঠে মরসুমের শেষ ম্যাচে এই জয়ের সঙ্গে সমর্থকদের উপহার দিলেন এক স্মরণীয় রাত।
