আয়ারল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়ে সিরিজ হার ভারতের, অভিষেক নেতৃত্বেই ব্যর্থ শ্রেয়স
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের দাপট যেন আচমকাই থমকে গেল বেলফাস্টে। টানা ১৬টি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের রেকর্ড, ১০৫০ দিনের অপরাজেয় যাত্রা—সবকিছুর ইতি টানল আয়ারল্যান্ড। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ১ রানে হেরে ০-২ ব্যবধানে সিরিজ খোয়াল টিম ইন্ডিয়া। নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে প্রথম সিরিজই পরিণত হল দুঃস্বপ্নে।
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শ্রেয়স। অভিষেক ম্যাচেই প্রিন্স যাদব ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন। শিবম দুবে দুটি উইকেট পান। হ্যারি টেক্টরের ৫৩ ও বেন কালিটজের ৩৭ রানের ইনিংসে আয়ারল্যান্ড তোলে ১৫৪/৮। লক্ষ্য কঠিন ছিল না, কিন্তু ব্যাট হাতে ভারতের ব্যর্থতা ফের সামনে চলে আসে।
শুরুতেই ধাক্কা। সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা শূন্য রানে ফেরেন। এরপর শ্রেয়স আইয়ারও মাত্র ১০ রান করে আউট হন। ভারতের প্রথম তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পেসার জয় মুন্দ্রা। ঈশান কিষানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। এক সময় ১ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত।
বৃষ্টির বিরতির পর তিলক বর্মা ও অক্ষর প্যাটেল কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তিলক ৪৬ বলে ৫৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেও দলকে জয়ের মুখ দেখাতে পারেননি। শেষদিকে হর্ষিত রানা ও প্রিন্স যাদব লড়াই চালালেও শেষ বলে ছক্কা মেরেও ব্যবধান ঘোচানো গেল না। ৯ উইকেটে ১৫৩ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস।
এই সিরিজ হার শুধু একটি পরাজয় নয়, ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের আধিপত্যে বড় ধাক্কা। বিশ্বকাপজয়ী সূর্যকুমার যাদবের পরিবর্তে শ্রেয়স আইয়ারকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি টপ অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যর্থতার মধ্যে বৈভব সূর্যবংশীর মতো তরুণ প্রতিভাকে সুযোগ না দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা বাড়ছে। ইংল্যান্ড সফরের আগে গৌতম গম্ভীর ও টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে তাই উত্তর খোঁজার চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে উঠল।
