৩ দিন আগের কড়াকড়ি বাতিল! কমিশনের বাইক নিষেধাজ্ঞায় লাগাম টানল হাই কোর্ট

0

নির্বাচনের আগে বাইক চলাচল নিয়ে জারি হওয়া বিধিনিষেধে গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। দ্বিতীয় দফার ভোটের তিন দিন আগে থেকেই বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এত আগাম কড়াকড়ির প্রয়োজনীয়তা নেই। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ ছাড় নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত বিধিনিষেধই বজায় থাকবে। আদালত জানায়, ভোটের দিন ১২ ঘণ্টা আগে থেকে জরুরি কারণ ছাড়া মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে বেরোনো যাবে না। জরুরি প্রয়োজনের মধ্যে রাখা হয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়, শিশুদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আনা এবং পারিবারিক প্রয়োজনীয় কাজ। একইসঙ্গে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত বাইক ব্যবহার করে ভোট দিতে যাওয়া যাবে। ফলে সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনও বাধা তৈরি হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন আগে নির্দেশ দিয়েছিল, ভোটের তিনদিন আগে থেকেই বাইক চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এমনকি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, বাইকে যাত্রী তোলা নিষিদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কড়া নজরদারির কথা বলা হয়েছিল। কমিশনের যুক্তি ছিল, বাইক ব্যবহার করে দ্রুত অপরাধ সংঘটিত করে এলাকা ছাড়ার প্রবণতা রুখতেই এই পদক্ষেপ। তবে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে প্রশ্ন তোলা হয় নাগরিক অধিকার নিয়ে। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এই ধরনের কড়াকড়ি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অযথা বাধা সৃষ্টি করছে। আদালতও সেই যুক্তিতে সায় দিয়ে বলে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি হলেও তা যেন অযৌক্তিকভাবে মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে।
সব মিলিয়ে, হাইকোর্টের এই রায়ে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার সীমারেখা স্পষ্ট হল, তেমনই অন্যদিকে সাধারণ মানুষের স্বস্তিও ফিরল।

দেখে নিন একনজরে কী রায়-
•  দ্বিতীয় দফার ভোটের তিনদিন আগে থেকে বাইক নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ খারিজ
•  বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের নির্দেশে আংশিক নিয়ন্ত্রণ বহাল
•  ভোটের দিন ১২ ঘণ্টা আগে জরুরি কারণ ছাড়া বাইক চালানো যাবে না
•  জরুরি কারণের মধ্যে চিকিৎসা, স্কুলে আনা-নেওয়া ও পারিবারিক কাজ অন্তর্ভুক্ত
•  ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত বাইকে ভোট দিতে যাওয়া যাবে

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed