নির্বাচনের আগে থেকেই বাইক নিষেধাজ্ঞা! বিতর্ক ঘিরে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি! আদৌ কি মীমাংসা হল?
নির্বাচনের মুখে মোটরবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নতুন বিতর্কে নির্বাচন কমিশন। সংবিধানের ৩২৪ ধারা অনুযায়ী অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের এই পদক্ষেপ, এই যুক্তি সামনে এলেও, তার আইনি ভিত্তি ও প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আপাতত রায় স্থগিত রাখা হয়েছে।
কমিশনের দাবি, অতীত অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাইক সহজলভ্য হওয়ায় বহু ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, এমন অভিযোগ রয়েছে তাদের কাছে। বিশেষ করে, একজন চালক এবং পিছনে বসা আরেকজনের মাধ্যমে দ্রুত অপরাধ করে এলাকা ছাড়ার প্রবণতা বেশি বলেই মনে করছে কমিশন। তাই নির্বাচনের আগে থেকেই বাইক চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এনে ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালান্স’ বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কমিশন আরও জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ নয়। জরুরি পরিষেবা, অফিসগামী বা প্রয়োজনীয় কাজে বেরোলে পরিচয়পত্র দেখিয়ে ছাড় মিলছে। পাশাপাশি, দেশের অন্য প্রান্ত পুদুচেরি বা তামিলনাড়ুতেও অনুরূপ পদক্ষেপ নেওয়ার নজির রয়েছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয় আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, ভোটের তিন দিন আগে থেকেই কেন এই কড়াকড়ি? যেখানে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, নাকা চেকিং আছে, সিসিটিভি আছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, কেন শুধুমাত্র বাইককেই নিশানা করা হচ্ছে, অন্য যানবাহনের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয় কেন?
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের পক্ষ থেকেও কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ৩২৪ ধারার ক্ষমতা দেখিয়ে কমিশন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টও এই ক্ষমতাকে একচ্ছত্র বলে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ বলেই দাবি করা হয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যও একই সুরে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। সংবিধানের গণ্ডি ছাড়িয়ে কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নির্বাচনে কমিশনের এই বাইক নিষেধাজ্ঞা অন্যতম নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও কমিশনের দাবি, ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ বরাবরই থাকে, তবে এবার তা আরও আগে থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং নাগরিক অধিকারের ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে এই মামলার রায় এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ।
