কেন ৮ বছর আড়ালে ছিল রশ্মিকা-বিজয়ের সম্পর্ক? সম্পর্কে নিয়ে প্রথম মুখ খুললেন রশ্মিকা-বিজয়
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চার হাত এক হয় বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানার। ‘গীতা গোবিন্দম’-এর সেই চর্চিত জুটি এখন বাস্তব জীবনেও একসঙ্গে। পর্দার জনপ্রিয় জুটি থেকে আজ তাঁরা একেবারে ‘পাওয়ার কাপল’। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে চলেছে জল্পনা।একসঙ্গে ছবি, ঘনিষ্ঠতা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং একসঙ্গে ভ্রমণ করা সবকিছু ঘিরেই বারবার উঠেছে তাঁদের প্রেমের গুঞ্জন। কিন্তু নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কখনও খোলাখুলি কথা বলতে দেখা যায়নি তাঁদেরকে। বরং ব্যক্তিগত জীবনকে বরাবরই ব্যক্তিগত রাখার পথেই হেঁটেছেন তাঁরা। অবশেষে বিয়ের পর নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন রশ্মিকা মন্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা।তবে দীর্ঘদিন সম্পর্ক গোপন রাখার কারণ কী ? জানালেন দুই দক্ষিণী তারকা ।

এক প্রচারমূলক পডকাস্টে বিজয় জানান, রশ্মিকার সঙ্গে তাঁর পরিচয় প্রায় আট বছরের। সেই সম্পর্কের শুরু হয়েছিল সহকর্মী হিসেবে। পরবর্তীতে বন্ধুত্ব, সেখান থেকে প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে ধীরে ধীরে।বিজয়ের কথায়, তাঁদের সম্পর্ক কখনও লুকোচুরি খেলার মতো ছিল না। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি বিষয় জনসমক্ষে জানানোর কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, “আমার জীবন,কেন সবাইকে গিয়ে বলব?”
তবে দুই তারকা সম্পর্কের কথা যে ইচ্ছা করেই গোপন রেখেছেন এমনটা নয়। শুধু প্রকাশ্যে জানানোর জন্য কোনও তাড়াহুড়ো করেননি। তাঁদের কাছে বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তাই বছরের পর বছর ধরে চলা জল্পনার সত্ত্বেও সম্পর্কের সত্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও ঘোষণা করেননি তাঁরা। বিজয়ের পর নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলেন রশ্মিকাও। তাঁর বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কেন তাঁরা ব্যক্তিগত জীবনকে সংবাদমাধ্যম ও অনুরাগীদের আলোচনার বাইরে রাখতে চেয়েছেন।
রশ্মিকা বলেন, “আমাদের সম্পর্ক বিনোদনের জন্য নয়। আমাদের সম্পর্ক আমাদের জন্য।” তাঁর মতে, জীবনের কিছু বিষয় এমন থাকে, যেগুলো নিজেদের মধ্যে যত্ন করে আগলে রাখাই ভালও। সেগুলোকে প্রকাশ্যে এনে আলোচনার বিষয় করে তোলার কোনও প্রয়োজন নেই।শুধু সম্পর্ক গোপন রাখার কারণ নয়, রশ্মিকাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত কীভাবে এল, সেই কথাও জানান বিজয়। অভিনেতার মতে, বন্ধুত্ব থেকে যখন তাঁদের সম্পর্ক প্রেমে পরিণত হয়, তখন ধীরে ধীরে রশ্মিকার ওপর এক ধরনের নির্ভরতা তৈরি হয় তাঁর।
রশ্মিকার সঙ্গে শুটিং করলে বেশি আনন্দ পেতেন, বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন বিজয়।রশ্মিকা পাশে থাকলে কঠিন কাজও যেন অনেক সহজ মনে হত তাঁর। এরপর দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তেও রশ্মিকার উপস্থিতি অনুভব করতে শুরু করেন বিজয়। একসঙ্গে খাওয়া, কাজের ফাঁকে সময় কাটানো কিংবা সাধারণ কোনও মুহূর্ত সবকিছুতেই তাঁকে পাশে পাওয়ার ইচ্ছা বাড়তে থাকে।বিজয় জানান, একা খাওয়ার সময় তাঁর মনে হত, রশ্মিকা যদি পাশে থাকতেন, তাহলে আরও ভালো লাগত। গত কয়েক বছরে তিনি বুঝতে পারেন, জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তে রশ্মিকাকে মিস করছেন। আর তখনই তাঁর মনে হয়, “বিয়ে করে নেওয়া যাক।”

দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে ঘনিষ্ঠ পরিবার ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন রশ্মিকা মন্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ব্যক্তিগত জীবনকে বরাবরই প্রচারের বাইরে রাখা এই জুটির বিয়েতেও ছিল সেই ছাপ।বিয়ের পর এ বার ফের পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাবে রশ্মিকা ও বিজয়কে। তাঁদের নতুন ছবি ‘রণবালি’ হতে চলেছে একসঙ্গে তাঁদের তৃতীয় ছবি। এর আগে ‘গীতা গোবিন্দম’ এবং ‘ডিয়ার কমরেড’-এ একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা।বিয়ের পর এটাই তাঁদের প্রথম ছবি। রাহুল সাংকৃত্যায়ন পরিচালিত ১৬ অক্টোবর ছবিটি তেলুগু, হিন্দি, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষায় মুক্তি পাবে।
