একটা বিশ্বকাপ জয়ে একাধিক রেকর্ডের সাক্ষী, রেকর্ডের সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না
টি২০ ফাইনাল শেষ। ফলাফল সবারই জানা। ইতিহাস গড়ে ঘরের মাঠে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। একই সঙ্গে প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি ধরে রাখার নজিরও গড়েছে তারা। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারানোর পথে ভারতীয় ক্রিকেটাররা গড়েছেন একাধিক নতুন রেকর্ড। সংখ্যায় সেই উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানগুলো নিচে তুলে ধরা হলো, যা জেনে রাখা দরকার—
৩: পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মোট ট্রফি এখন তিনটি – ২০০৭, ২০২৪ ও ২০২৬। এই টুর্নামেন্টে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রথম দল ভারত। এর আগে দুইবার করে ট্রফি জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১২, ২০১৬) এবং ইংল্যান্ড (২০১০, ২০২২)।
ভারতই প্রথম দল যারা টানা দুইবার পুরুষদের টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছে। এর আগে কোনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দল ফাইনাল পর্যন্তও পৌঁছতে পারেনি। পাশাপাশি নিজেদের মাঠে প্রথমবারের মতো এই ট্রফি জয়ের কৃতিত্বও দেখিয়েছে ভারত।

১-৩: পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয়–পরাজয়ের রেকর্ড এখন ১–৩। এর আগে এই টুর্নামেন্টে কিউয়িদের বিপক্ষে টানা তিনবার হেরেছিল ভারত। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কাই একমাত্র দল, যাদের বিপক্ষে এখনও জয় পায়নি ভারত।
২৫৫/৫: আহমেদাবাদে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের ৫ উইকেটে ২৫৫ রান টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের নকআউট ম্যাচে কোনো দলের সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের ২৫৩/৭ রানই ছিল রেকর্ড। এটা পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির কোনো ফাইনালে এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ২০২৪ সালে ইতালির ৪ উইকেটে ২৪৪ রান (রোমানিয়ার বিপক্ষে)। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এর আগে কোনো দল ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। সর্বোচ্চ ছিল ১৭৬-তাও ভারতের করা।

৯৬: নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের ব্যবধানে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে ভারত। এর আগে এই বিশ্বকাপেই নামিবিয়ার বিপক্ষে ৯৩ রানের জয় ছিল তাদের বড় সাফল্য।
এই ৯৬ রানের হার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডেরও সবচেয়ে বড় পরাজয়। কিউয়িদের তিনটি বড় হারের মধ্যে দুটি এসেছে আহমেদাবাদে ভারতের বিপক্ষে।
৪/১৫: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জসপ্রীত বুমরাহ ৪ উইকেট নেন মাত্র ১৫ রানে। এটা তার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের প্রথম চার উইকেট নেওয়া ম্যাচ। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে চার উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলার তিনি। এর আগে ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন অজন্তা মেন্ডিস।
১: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো টানা দুই ম্যাচে ২৫০-এর বেশি রান করেছে ভারত। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫৩/৭ করার পর ফাইনালে করেছে ২৫৫/৫। এর আগে পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে টানা দুই ম্যাচে ২৫০-এর বেশি রান করার রেকর্ড ছিল শুধু একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের।
এই বিশ্বকাপেই তিনবার ২৫০-এর বেশি রান করেছে ভারত, যা একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

১৮: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক শর্মা মাত্র ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন-যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দ্রুততম। আগের রেকর্ড ছিল ১৯ বলে।
৮৯: ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সঞ্জু স্যামসনের ৮৯ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংস। এর আগে ২০১৬ সালে মারলন স্যামুয়েলস অপরাজিত ৮৫ এবং ২০২১ সালে কেন উইলিয়ামসন ৮৫ রান করেছিলেন।
স্যামসন এখন তৃতীয় ব্যাটার, যিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল-দুই ম্যাচেই হাফসেঞ্চুরি করেছেন। আগে এই কীর্তি ছিল শহিদ আফ্রিদি (২০০৯) ও বিরাট কোহলির (২০১৪)।
৯৮ : অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনের ৯৮ রানের ওপেনিং জুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল ২০০৯ সালে পাকিস্তানের দুই ওপেনারের ৪৮ রান। এটি তাদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক কেরিয়ারেরও সেরা উদ্বোধনী জুটি।
৯২/০: পাওয়ারপ্লেতে ভারতের ৯২ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজও পাওয়ারপ্লেতে ৯২ রান তুলেছিল।
৪: টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই চারবার হাফসেঞ্চুরি করেছেন অভিষেক শর্মা-যা কোনো ব্যাটারের জন্য সর্বোচ্চ।
৩: টানা তিন ম্যাচে ৮০-এর বেশি রান করেছেন সঞ্জু স্যামসন। আগের দুই ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ৯৭* ও ৮৯। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে এই কীর্তি ছিল কেবল মাহেলা জয়বর্ধনের (২০১০)।
৩২১: এবারের বিশ্বকাপে সাঞ্জু স্যামসনের মোট রান ৩২১, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৪ সালে বিরাট কোহলির ৩১৯ রান ছিল রেকর্ড।
২৪: এই টুর্নামেন্টে স্যামসন মোট ২৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন-যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ২০টি ছক্কা।
সব মিলিয়ে একের পর এক রেকর্ডের সাক্ষী হয়ে ভারতের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় আরও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।
