২০২৪ এর পর ২০২৬, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত, কিউয়িদের বিরুদ্ধে রেকর্ড রানে হেসেখেলে জয়

0

বিশ্বকাপ ভারতেই ছিল। ভারতেই থাকবে। রোহিত শর্মা ২০২৪ সালে জয় করেছিলেন, ২০২৬ সালে সেই কাপ নিজেদের করে রাখলেন সূর্যকুমার যাদব। ভারত ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। নিউজিল্যান্ডকে একপ্রকার উড়িয়েই দিয়েছে ভারত ফাইনালে। বলা ভাল, ভারতের তিন ব্যাটারের তাণ্ডবে শুরুতেই তাদের স্বপ্ন চাপা পড়ে গিয়েছিল। ভারতের ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ড থামল   উইকেটে ১৫৯ রানে। সূর্যকুমারের ভারত জয় পেয়েছে ৯৬ রানে।


ফাইনাল এমনিতেই স্নায়ুর চাপের খেলা। এরওপর যদি তাণ্ডবলীলা দেখা যায় প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে, তাহলে নার্ভ ফেল করতে বাধ্য। আহমেদাবাদে তাই হয়েছে কিউয়িদের। ভারতের পাহাড়প্রমাণ রানে নিউজিল্যান্ড নাভিশ্বাস উঠেছে। ৫ ওভারে ৪৭ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। অ্যালেন (৯), রাচিন রবীন্দ্র (১), ফিলিপস (৫)। ৯ ওভারের মধ্যেই ৫ উইকেট চলে যায়। চ্যাপম্যান (৩), সেইফোর্ট (৫২)। এরপর স্যান্টনার লড়াই করলেও, তা শুধু ব্যবধান কমানোর জন্য। ততক্ষণে ভবিতব্য সবাই বুঝেই যায়। স্যান্টনার থামেন ৪৩ রানে। ভারতের হয়ে ৪ উইকেট নেন জসপ্রীত বুমরাহ। ৩ উইকেট নেন অক্ষর প্যাটেল।  একটি করে নেন অভিষেক শর্মা,হার্দিক পাণ্ডিয়া ও বরুণ চক্রবর্তী।
ফাইনালে আসলে নিউজিল্যান্ডকে কোনও সুযোগই দেয়নি ভারত। ফাইনালে নিজেদের গড়া রেকর্ড নিজেরাই ভাঙে ভারত। গত টুর্নামেন্টে ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৭৬ রান করেছিল ভারত। টপ অর্ডারের তাণ্ডবলীলায় এবার তা ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তুলে ফেলে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ভারতকে এই রেকর্ড গড়ার সুযোগটা করে দেন নিউজিল্যান্ডর অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। টস জিতে সূর্যদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
তাণ্ডবের শুরুটা করেন অভিষেক শর্মা। ১৮ বলে ফিফটি করে গড়েন বিশ্বকাপ নকআউটে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। ৬ ওভারে বিনা উইকেট ৯২ রান করে ভারতও ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তোলে পাওয়ার প্লেতে। ২১ বলে ৫২ করে দলীয় ৯৮ রানে অভিষেক আউট হলেও ফর্মে থাকা সঞ্জু স্যামসন দিশেহারা করে তোলেন কিউয়ি বোলারদের। স্যামসনের সঙ্গে যোগ দেন ঈশান কিষান। দুজনের ঝড়ে মাত্র ১৫ ওভারেই দুইশ ছাড়ায় রান। টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও একটিও পাওয়া হয়নি স্যামসনের। ৫ চার ও ৮ ছক্কায় ৪৬ বলে ৮৯ রান করে থামেন তিনি। ৬ বলের ব্যবধানে স্যামসনসহ আরও দুই ব্যাটারও সাজঘরে ফিরলে ২০৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। তাতে কিছুটা কমে যায় রানের গতি। জিমি নিশাম ফেরান ২৫ বলে ৫৪ রান করা ঈশান কিষান ও ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে। গোল্ডেন ডাকে ফেরেন সূর্য। হার্দিক পান্ডিয়া ১৩ বলে ১৮ করে আউট হলে ২২৬ রানে ৫ উইকেট হারায় ১৯ ওভার শেষে বোর্ডে তখন ২৩১। শেষ ওভার করতে আসেন নিশাম। প্রথম বলেই শিবম দুবের ক্যাচ ছেড়ে ৪ বানিয়ে দেন কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। জীবন পেয়ে সেই ওভারে ৩ চার ও দুই ছক্কায় ২৪ রান তোলেন দুবে। ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিলক। আর ভারতের বোর্ডে জমা হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৫৫ রান। ২০২৪ সালে রোহিতের জয় করা বিশ্বকাপ ট্রফি, ঘরের মাঠে আরও একবার উচিয়ে ধরলেন সূর্যকুমার যাদব।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *